বিজ্ঞাপন

এ ‘বছরেই’ হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎ, দীপন, ওয়াশিকুর হত্যা মামলার রায়

January 24, 2021 | 4:38 pm

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এ বছরের মধ্যে প্রথাবিরোধী লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে বুয়েটের ছাত্র আবরার, ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা মামলাও।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের অনেক মামলায় রায় ঘোষণার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছিয়ে করোনার থাবাই তা থমকে গিয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কিছুটা কম থাকায় মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে বেশ তৎপর রাষ্টপক্ষের আইনজীবীরা।

চলতি বছরের সে সব মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে: প্রথাবিরোধী লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাটি বেশ আলোচিত ছিল। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার সময় তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সিএমএইচে ও ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান। হত্যা মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন তারিখ ধার্য করেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের বিচারক মাকছুদা পারভীন। এ মামলার রায় হতে পারে এ বছরের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় আসামিদের সাফাই সাক্ষী আাগামী ১৭ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে। মামলাতে ৮ আসামির মধ্যে ৬ আসামি কারাগারে রয়েছে। এ নিয়ে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এটির রায় ঘোষণা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি।

লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধানসহ ছয় জঙ্গির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। চার্জশিটভূক্ত মামলাটিতে এ নিয়ে ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তেজগাঁও এলাকায় থেকে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষ্য পুলিশের এসআই হাবিবুর রহমানকে পুনরায় জেরা চলামান রয়েছে। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রবিউল আলমের আদালতে মামলাটির বিচারাধীন রয়েছে।

২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি ছিল বেশ আলোচিত। ওই ঘটনায় আবরারের বাবার দায়ের করা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠন করেন আদালত। মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন। মামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি মামলাটি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ জনের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। মামলাটিতে গত ১৩ আগস্ট আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে মামলাটি ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিও’র কর্মকর্তা তাভেল্লা সিজার। ওই দিন তার সহকর্মী আইসিসিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ হেলেন ভেন ডার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ২২ জুন মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।  ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত চার্জশিটভুক্ত ৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলাটি্ও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের মামলাটি বিচারাধীন। আগামী ২৬ জানুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য রয়েছে। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন।

২০২০ সালের ডা. সাবরিনা চৌধুরীর গ্রেফতার ছিল বেশ আলোচিত। করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করার মামলায় ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আট জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির সারাবাংলাকে জানান, ব্লগার দীপন ও অভিজিৎ হত্যার মামলা দুটি রায়ের পর্যায়ে পৌছিয়ে গেছে। ব্লগার দীপন হত্যার মামলাটি আগামী রোববার রায়ের জন্য তারিখ পড়তে পারে আশা করছি। আর অভিজিৎ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আশা করছি, এটায় খুব দ্রুত রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে এ দুটি মামলা রায়ে হয়ে যেতে পারব। কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য বিচার কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, যত দ্রুত মামলার রায় ঘোষণা হবে, আসামিরা তত তাড়াতাড়ি রেমেডি পাবে। চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো যত দ্রুত রায় হয়ে হবে, সকলেরও হয়রানি কম হবে। এদিক থেকে রাষ্ট্রপক্ষে আরও সচেতন হতে হবে।

স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরই আজাদ রহমান জানান, করোনাভাইরাসের সময় অনেক মামলায় রায় পর্যায়ে পৌঁছে আটকিয়ে গিয়েছিল। আদালত স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে সব গুলো দ্রুতই বিচার চলছে। আশা করছি, গত বছরের চেয়ে এ বছরের রায় সংখ্যা অনেক বেশি হবে।

সারাবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন