বিজ্ঞাপন

মশা অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে: তাজুল ইসলাম

January 24, 2021 | 7:14 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীতে মশা অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। রোববার (২৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন এবং প্রাকৃতিক খালগুলোর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আপনারা মশা নিয়ে কিছু কথাবার্তা বলছেন। আমি যদিও এটা মনে করি অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় এখন কিউলেক্স মশার পরিমাণ কম। তাও (মশা) মানুষের কাছে অসহ্য ও যন্ত্রণার কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এই কথাটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। বাড়ির মালিকরাসহ সবাই একত্রে এই মশা মারতে যোগ দিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলাম বলে আমরা একটা সন্তোষজনক একটা জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।’

ঢাকার খালগুলো দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও খালগুলো ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। জনমানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিল যে, এটা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকলে ভালো হবে। শুধু বৃষ্টির পানি যাওয়ার জন্য, খালগুলোকে পরিস্কার করার জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। উদ্দেশ্য হলো, যেসব খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়েছে তা দখলমুক্ত করে সংস্কার করা।’

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে, সিএস এবং আরএস দেখে ধাপে ধাপে সমস্ত জায়গা চিহ্নিত করা হবে। এরপর নদী-খাল দখল করে যত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাবে।’

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীন যেসব খাল রয়েছে সেগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান অধিক দায়িত্বশীল হবে বলেই ওয়াসা থেকে খালের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা খালের দায়িত্বও দুই সিটি করপোরেশনেকে দেয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।’ এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়ন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং দেশের মানুষকে উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে কারো সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। ঢাকাকে শুধু বাসযোগ্য নয়, দৃষ্টিনন্দন করে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।’

সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি (আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে), মধ্যমেয়াদি (আগামী দুই বছরের মধ্যে) এবং স্বল্পমেয়াদী (আগামী ছয় মাসের মধ্যে) কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে। এছাড়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিজস্ব এবং সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানায়।

বিজ্ঞাপন

সভায় উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, রাজউক চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলম, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার নিকট হতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন