বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ

January 24, 2021 | 7:25 pm

শাহীনূর সরকার

ঢাকা: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য চীন, রাশিয়া, ইউরোপ ও আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ জানুয়ারি) ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অগ্রগতি কতদূর’ শীর্ষক সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাসে’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচকরা এই তাগিদ দেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের এবারের পর্বে সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্ত  ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল করিম এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা রো সাইয়েদুল্লাহ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘প্রত্যাবাসন সমস্যার জন্য রোহিঙ্গাদের দোষারোপ করা যাবে না’ উল্লেখ করে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে মিয়ানমার। তাই মিয়ানমারের বলয়ের বাইরে যারা আছে তাদেরকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। চীন, জাতিসংঘ, আসিয়ান দেশ, ইউরোপকে যুক্ত করা যেতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চীন বললেই যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ চায়, চীন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিক। এতে চীনের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা বাড়তে পারে।’

তবে বাংলাদেশের জন্য শুধু চীনের ওপর নির্ভর করা আত্মঘাতী। কারণ বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমারে চীনের অনেক বেশি স্বার্থ আছে বলে মনে করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে একইরকম থাকবে না। তাই, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল করিম। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন চীনের ওপর নির্ভরশীল। তাই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে হবে। সেইসঙ্গে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং জাতিসংঘকে যুক্ত করতে হবে।’ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছে বলেও জানান তিনি।

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী হতে হবে  উল্লেখ করে আমিনুল করিম বলেন, ‘বেশি বেশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও বাংলাদেশের কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ একইসঙ্গে বাংলাদেশের সাইবার নেটওয়ার্ককে আরও বেশি শক্তিশালী করতে তরুণদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন  তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যাবাসন বিষয়ে রোহিঙ্গা স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা রো সাইয়েদুল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমাদের ক্যাম্পে দুই বার সরাসরি মিটিং হয়েছে, যেখানে আমরা আমাদের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। সেজন্য এখন তারা আমাদের সঙ্গে সরাসরি মিটিং করে না। আলাদাভাবে বাংলাদেশ সরকার ও চীনের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ জরুরি।’

সাইয়েদুল্লাহ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ সরকার ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে । আবার এদেশে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। নিজ দেশে ফেরত যেতে না পারায় অস্তিত্ব সংকটে আছি আমরা।’ তাই এই সমস্যা সমাধানে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন সাইয়েদুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ ‍সৃষ্টি করতে পারলেই রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবে বলে মত দিয়েছেন সারাবাংলা ফোকাসের অতিথিরা। বাংলাদেশ বারবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চাইলেও মিয়ানমারের বিরূপ আচরণের কারণে তা হচ্ছে না বলেও আলোচনায় উঠে  আসে।

সারাবাংলা/এসএসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন