বিজ্ঞাপন

সাগরিকায় তামিমদের হোয়াইটওয়াশের মিশন

January 24, 2021 | 8:54 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা বাংলাদেশ এই মুহূর্তে বেশ ফুরফুরে মেজাজে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল। টাইগারদের এবার 'হোয়াইটওয়াশে'র মিশন।

বিজ্ঞাপন

আগামীকাল সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টায়।

ইতোমধ্যে সিরিজ নিশ্চিত হলেও কিন্তু তৃতীয় ম্যাচটাকে 'শুধুই নিয়ম রক্ষার' বলা যাচ্ছে না। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে এখন প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে সুপার লিগে প্রতি জয়ে ১০ পয়েন্ট পেতে এখন মরিয়া দলগুলো। সিরিজ জয় নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশের কাছে তাই তৃতীয় ওয়ানডেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলপতি তামিম ইকবালের কথায় সেটা ফুটে উঠল পরিস্কারভাবে, 'আমরা সিরিজ জিতে গেছি বটে। তবে আরও ১০টি পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম দুই ম্যাচে ততটা ভালো খেলতে পারেনি। তবে তারা বিপজ্জনক দল ও যে কোনো সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আশা করি, আমাদের এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। কালকের ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। যেটা বলেছি, সিরিজ জিতেছি, কিন্তু আরও ১০ পয়েন্ট পাওয়ার আছে।'

সাগরিকায় তামিমদের হোয়াইটওয়াশের মিশন

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় ম্যাচটাও জিতে নেওয়ার লক্ষ্যে একাদশে যে খুব বেশি পরিবর্তন করা হবে না সেটাও জানিয়েছেন তামিম। অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঢাকায় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। আভাসে মনে হচ্ছে, তৃতীয় ম্যাচেও ভন্ডুর ক্যারিবিয়ানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইবেন টাইগাররা। সাগরিকার অতীতও নিশ্চয় বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করবে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম বরাবরই বাংলাদেশের জন্য পয়া। এর আগে এই মাঠে ১৯ ওয়ানডে খেলে ১২টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। শতকরা হার ৬৩.১৫। জাতীয় ভেন্যু মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও জয়ের হার এতো ভালো নয় টাইগারদের। মিরপুরে জয়ের হার ঠিক ৫০। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটা মাত্র ওয়ানডেই খেলেছে বাংলাদেশ। সেই স্মৃতিটাও নিশ্চয় অনুপ্রেরণা দিবে তামিমদের।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালে পূর্ণশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই মাঠে মাত্র ৬১ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান সেদিন বল হাতে স্পিন বিষ ঢেলেছিলেন। ৪ উইকেট তুলে নিতে খরচ করেন মাত্র ১৬ রান। এক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর ফিরে সাকিব এই সিরিজেও ক্যারিবিয়ানদের কাঁদাচ্ছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন, দ্বিতীয়টিতে ৩০ রানে ২ উইকেট। জহুর আহমেদে সাকিবের বোলিং পরিসংখ্যানও উজ্জ্বল। ১৫ ম্যাচে ৩০ উইকেট, এটা এই মাঠে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। এই মাঠের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবালও আছেন ফর্মে। প্রথম ম্যাচে ৪৪ করা তামিম দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন ৫০ রান। তাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ তিন সিরিজেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেছে। এতো সবে এগিয়ে থেকেই কাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

সাগরিকায় তামিমদের হোয়াইটওয়াশের মিশন

বিজ্ঞাপন

ওদিকে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে ক্যারিবিয়ানদের 'আরেকটু ভালো'র প্রত্যাশা। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩২.২ ওভারে গুটিয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গুটিয়ে গেছে ৪৩.৪ ওভারে। অভিষিক্ত আকেল হোসেন ও আলগরি জোসেফ ভালো বোলিং করলেও ব্যাটিংটা একেবারেই যাচ্ছে-তা হচ্ছে অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

ম্যাচ পূর্বসংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী কোচ রডি ইস্টউইক বলছিলেন, 'আমাদের ব্যাটিংটা উদ্বেগের। আমরা পঞ্চাশ ওভার ব্যাটিং করতে পারিনি। আমরা যে স্কোর আশা করছি সেটা পাচ্ছি না। নতুন ছেলেদের ক্ষেত্রে পিচ অনেক চ্যালেঞ্জিং। এটা লুকানোর কিছু নেই। নিশ্চয় আমাদের উন্নতি করতে হবে।'

সফরকারীরা কতোটা উন্নতি করতে পারে বা উন্নতি করে দুর্বার বাংলাদেশের আরেকটা জয় থামাতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার। উত্তর পেতে বেশি অপেক্ষাও করতে হচ্ছে না!

সারাবাংলা/এসএইচএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন