বিজ্ঞাপন

জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার জড়ো করছে বিএনপি: আ.লীগ

January 24, 2021 | 9:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। তিনি চট্টগ্রামবাসীকে সজাগ থাকার পাশাপাশি প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর বহদ্দারহাটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না।

এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকল দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ মনে করে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ছাড়া কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, মাস্তান দিয়ে কেউ বেশিদিন সমাজে টিকে থাকতে পারে না। অতীতের সামরিক শাসকরাও চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। জনগণের ওপর আস্থা-বিশ্বাস আছে বলেই আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে সেই বিএনপি ও তাদের মেয়র প্রার্থী (শাহাদাত হোসেন) বিভিন্নসময় অপপ্রচার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। অথচ দু’য়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া চট্টগ্রামে নির্বাচনের পরিবেশ এখনও ভালো আছে। কিন্তু আমাদের কাছে খবর আছে- সেই ভালো পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য যে দলটির পায়ের তলায় যখন মাটি নেই, সাংগঠনিকভাবে যে দলটি শক্তি হারিয়েছে, সেই দল বিএনপির নেতারা এখন তাদের মিত্র জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডার, বিভিন্ন মামলার আসামি যারা অতীতে জ্বালাও-পোড়াও করেছে, পেট্রোল বোমা মেরেছে, আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে, সেসব সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে।’

এস এম কামাল আরও বলেন, ‘নির্বাচন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এখানে যার ভোট সে দিতে পারবে। ব্যালটে নির্বাচনে অনেকসময় ত্রুটি হয়, এটা আমরা স্বীকার করি। জোর করে সিল মারা যায়, যেটা অতীতে বিএনপি করেছে। কিন্তু ইভিএম পদ্ধতিতে সে সুযোগ নেই। আর বিএনপির প্রার্থী সেই ইভিএমকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। কারণ উনি জানেন নির্বাচনে উনি হেরে যাবেন। মানুষ উনার (শাহাদাত) দল বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে যায়নি। বিএনপির আমলে দেশ ছিল জঙ্গিবাদের দেশ, দুর্নীতিবাজের দেশ। মানুষ সেটা ভুলে যায়নি।’

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় উল্লেখ করে এস এম কামাল বিএনপির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য চট্টগ্রামবাসী ও প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেন সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোনোভাবেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে আপনারা সজাগ থাকবেন। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের রায়কে মেনে নিতে চাই।’

আওয়ামী লীগ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে বলে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এত দুর্বল না যে, বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসবে। চট্টগ্রামের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, নৌকার পক্ষে। অনেকে হয়ত আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ থাকতে পারে, কিন্তু নৌকা দেখলে একজন মুক্তিযোদ্ধা ঘরে বসে থাকতে পারে না। এ কারণে আমাদের লোক জড়ো করার দরকার নেই। চট্টগ্রাম নগরবাসীই আমাদের জন্য যথেষ্ঠ, নৌকার জন্য যথেষ্ঠ।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি এম এ সালাম, নগর কমিটির সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও শফিক আদনান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন