বিজ্ঞাপন

অটোপাশের পক্ষে-বিপক্ষে এমপিরা

January 24, 2021 | 9:20 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অটোপাশের পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্যরা। কোনো কোনো সংসদ সদস্য পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে থাকলেও অন্যরা বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তই যথার্থ। তবে নিয়মিত মনিটরিং করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৪ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এইচএসসি ও সমমানের তিনটি পরীক্ষার পৃথক তিনটি বিল পাশের আগে বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সংসদ সদস্যরা কথাগুলো তুলে ধরেন।

আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, মুজিবুল হক চুন্নু, রওশন আরা মান্নান, মোকাব্বির খান ও রুমিন ফারহানা।

বিজ্ঞাপন

হারুনুর রশীদ বলেন, যদি সারাদেশে বেশি করে কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া যেত। তাতে অন্তত পরীক্ষার মাধ্যমে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতাম। তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের অন্ততপক্ষে বাড়িতে টেবিলে বসানোর একটা ব্যবস্থা হতো।

তিনি বলেন, আইন পাসের মধ্য দিয়ে অটোপাশ দিয়ে দিলাম। সত্যিকার অর্থে ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত যে ভয়াবহ একটা সংকট তৈরি হল। বিষয়গুলো আরও চিন্তা-ভাবনা আরও বিবেচনায় আনা উচিত ছিল। সত্যিকার অর্থে এর মধ্য দিয়ে মেধাবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল।

বিজ্ঞাপন

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকার কারণে ছেলে মেয়েরা মানসিক চাপের মধ্যে আছে। যদি তাদের আবারও একই শ্রেণিতে একবছর থাকতে হয় তাহলে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাবে।

গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, বিলটির সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ জড়িত। কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছে। যেখানে ক্ষমতাধর দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ অনেকটা নিরাপদে আছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যখন সরকার দেশের সমগ্র শিল্প-কারখানা, পোশাক খারখানা খুলে দিল, যেখানে লাখে লাখে মানুষ কাজ করছে। সেখানে সরকার একটু সচেষ্ট হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা বাংলাদেশেই এই পাবলকি পরীক্ষা নেওয়া অবশ্যই সম্ভব হত। এখানে অবশ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, বিলটা না এনে কোনো পথ ছিল না। গত এক বছরে কোভিড-১৯-এর সময়ে গ্রামে-গঞ্জে করোনার প্রভাবটা ওইভাবে দেখি নাই। অটোপাশ না করে আমরা একটা সংক্ষিপ্ত অর্থাৎ একটা শর্ট কোর্সের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারতাম। ১৯৬১ সালেও এরকম একটা অটোপাশের গেজেট হয়েছিল। ওই সময় যারা পাশ করেছিল, তারা সারাজীবণ একটা গ্লানি হিসেবে বয়ে বেড়িয়েছে। এই বদনাম ঘোচানোর জন্য শর্ট একটা পরীক্ষা নিতে পারতাম।

বিজ্ঞাপন

ফখরুল ইমাম বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিল। কয়েক লাখ ছেলে-মেয়েরা যে একসঙ্গে এসে পরীক্ষা দেবে। এইটার জন্য যে বিল আসছে এটা একটা দূরদর্শিতা। আগে তো জান তারপর তো জাহান। একবছর মানুষের জীবণে কিছুই হয় না। অনেকে বলেছেন মেধার সমস্যা হয়, কিছুই হয় না। এরকমও অনেক লোক আছে যারা এসএসসিতে তৃতীয় এবং এইচএসসিতেও তৃতীয় বিভাগে পাশ করে পরবর্তিতে মেডিকেল সাইন্সে সর্বোচ্চ জায়গায় স্থান করেছে। যাদের মেধা থাকে যেকোনো সময় উঠে আসতে পারে।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষকদের প্রশ্নফাঁস করাসহ নানা দুর্ভোগের পর এখন যুক্ত হয়েছে অটোপাশ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ের পর তার বাক নির্ধারিত হয়। কারণ কে ডাক্তার হবে, কে ইঞ্জিনিয়ার হবে, কে আইনজীবী হবে সেটা নির্ধারিত হয় ঠিক এই পর্যায়ে। ছাত্র ছাত্রীরা মূল পড়াশোনাটা করে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। পরীক্ষা না থাকলে নিয়মতি ক্লাস করে পাঠ্যপুস্তকের ওপর পুরোপুরি দখল আসে না। সেখানে করোনাকালীন সময় দীর্ঘ সময় ক্লাস বন্ধ ছিল। অতীতের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ইনসাফ হয় না। অটোপাশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভাল ছাত্রছাত্রী। এই ক্ষতি দেশেরও হবে।

পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাদের বক্তব্যের জবাবে বলেন, পরীক্ষার্থীরা পুরোপুরি প্রস্তু ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই একই অবস্থা। উন্নত দেশ যেসকল দেশকে আমরা ফলো করি, সেসব জায়গায়ও তারা কাছাকছি রকম অ্যাসেসমেন্ট করে রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে। কাজেই এটা হঠাৎ করেই করেছি সেটি ভাববার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু গেজেট প্রকাশের কথা বলা আছে, আমাদের সে প্রস্ততি নেওয়া আছে। জানুয়ারির মধ্যে সমস্ত ফলাফল তৈরি করে অর্ডিন্যান্স পাশ করে ফলাফল দিয়ে দেবার প্রস্ততি ছিল। গেজেট প্রকাশ করতে বিল পাস হয়ে গেলে দুই দিনের মতো সময় লাগবে। তারপরই আমাদের ফলাফল প্রকাশ করতে পারব। বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমআই

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন