বিজ্ঞাপন

‘ভারত সরকার যে দামে ভ্যাকসিন কিনছে বাংলাদেশও একই দামে আনছে’

January 24, 2021 | 9:56 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসছে সোমবার। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত এ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে। ভারত সরকার যে দামে কিনছে বাংলাদেশও একই দামে ভ্যাকসিন কিনে আনছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভ্যাকসিনের সবশেষ তথ্য নিয়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় এ কথা বলেন বেক্সিমকো পরিচালক।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, প্রথম লটের ভ্যাকসিন যেহেতু আসছে, আমি নিজেই যাবো, এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে। ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সকাল ৮টায় রওনা হবে। আমাদের এখানে সাড়ে ১১টায় পৌঁছাবে। এয়ারপোর্ট থেকে ভ্যাকসিনগুলো বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউজে নেওয়া হবে। চালানটি গ্রহণ করে তা ল্যাবে পাঠানো হবে। ল্যাব পরীক্ষার পর যখন ক্লিয়ারেন্স পাব, তখন সরকার যে ৬৪টি জেলায় দিতে বলবে সেখানে পাঠাবো। শুধু পৌঁছালে হবে না, এটা প্রমাণ করতে হবে যে, এটার সবকিছু ঠিক আছে।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য নতুন করে বিশেষভাবে এই ওয়্যারহাউজ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভ্যাকসিন দেশে আসার পর ল্যাবটেস্ট ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সময় মতো দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বেক্সিমকো মধ্যস্থতা করছে। এতে সরকার অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। তবে সরকার যেসব শর্ত দিচ্ছে তা আগে জানলে বেক্সিমকো এই মধ্যস্থতায় যেত না। ভ্যাকসিন আমদানি করতে সারা বিশ্বের নিয়ম হলো, সরকার একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাকসিন নেবে। এক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট বা অফিস থাকতে হবে ভ্যাকসিন সরবরাহকারী দেশে। ৬০টি দেশে বেক্সিমকোর এজেন্ট রয়েছে। সে কারণে ভারত থেকে বেক্সিমকোর মাধ্যমে সরকার নিজে ভ্যাকসিন আমদানি করছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সরকার যে শর্ত দিয়েছে, তা আগে জানলে বেক্সিমকো ভ্যাকসিন আমদানির দায়িত্ব নিত না উল্লেখ করে পাপন বলেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, আমাদের কিছু লাভ তো থাকবেই। সরকার যে শর্তগুলো দিয়েছে, এটা আগে জানলে আমরা এই দায়িত্ব নিতাম না।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের দাম ওঠানামা করতে পারে। এক্ষেত্রে ভারত সরকার যে দামে ভ্যাকসিন পাবে, বাংলাদেশও একই দামে পাবে- এমন চুক্তিতেই সিরাম থেকে ভ্যাকসিন কিনেছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

এমন চুক্তি বিশ্বের আর কোনো দেশের সঙ্গে নেই বলে জানান নাজমুল হাসান পাপন।

দেশে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সকল দায় বেক্সিমকোর উল্লেখ করে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভারত থেকে আসা ভ্যাকসিন যদি ভাঙা থাকে বা কোনো কারণে কম থাকে, তাহলে সে দায় বেক্সিমকোকে বহন করতে হবে। ৩ কোটি ডোজ মানে ৩ কোটি ডোজ বুঝিয়ে দিতে হবে। সব দায়-দায়িত্ব বেক্সিমকোর। সরকার এখানে রিস্ক ফ্রি।

বিজ্ঞাপন

সিরাম থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণ হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, বেক্সিমকো প্রথমে যে কোনোটা নিতে পারতো। আমরা চিন্তা করে দেখলাম, আপনি যদি ১০ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দিতে চান, তাহলে অন্য কোম্পানি থেকে নেওয়া সম্ভব না। তখন একমাত্র অপশন ছিল অক্সফোর্ড। সিরামের কাছে ১০ কোটি ডোজ ছিল। একটু দেরি হলে এটাও থাকত না। এখন দেখেন সব দেশ ভ্যাকসিন চাচ্ছে। অনেক দেশ জুনের পর ভ্যাকসিন পাবে। ব্রাজিল সরকার বিমান পাঠাতে চাচ্ছে, তাও পাচ্ছে না। আমরা প্রথমে সিরামকে অর্ডার করি। তাই আমরা পেয়েছি।

তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশ একই দামে ভ্যাকসিন পাবে। ভারত যদি কম দামে ভ্যাকসিন পায়, বাংলাদেশও কম দামে পাবে, তবে ভারত যদি বেশি দামে কিনে বাংলাদেশও সেই দাম দেবে না। বাংলাদেশ কম দাম দেবে।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভারত সরকারের ভ্যাকসিন ক্রয়মূল্য তিন ডলারের মতো পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশও তিন ডলারে কিনবে। তবে ভারত যদি চার ডলারের বেশি দামে কেনে, বাংলাদেশ সেই দামে কিনবে না। বাংলাদেশ তিন থেকে চার ডলারেই কিনবে। এমন ঐতিহাসিক চুক্তি আগে কখনো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, মডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিনে কিছু সাইড ইফেক্ট আছে। যা আমাদের কাছে নতুন। এখন পর্যন্ত যেটা শুনেছি, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে কাউকে হাসপাতালে যেতে হয়নি বলে ওরা বলছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর যদি কারও কোনো সাইড ইফেক্ট দেখা দেয়, সরকার দেখবে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ইচ্ছে থাকলেও ওষুধ খাওয়ার কারণে প্রথমেই ভ্যাকসিন নেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমার ইচ্ছা ছিল, আমি প্রথমেই নেব। কিন্তু আমি কতগুলো ওষুধ খাই। যার কারণে আমাকে কিছু দিন পর নিতে হবে। আমি চার পাঁচ দিন পর নেব এবং এটাই নেব।

সারাবাংলা/এসবি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন