বিজ্ঞাপন

‘সুরক্ষা’য় নিবন্ধন করা যাবে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও

January 26, 2021 | 9:05 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য ‘সুরক্ষা’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। আগামী ২৭ জানুয়ারি এই প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করা হবে। এদিন থেকে দেশে শুরু হবে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম। এই প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন করা ছাড়া কেউ ভ্যাকসিন নিতে পারবে না। ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সব তথ্য ভবিষ্যতে বিশ্লেষণ করার সুবিধার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদের স্মার্টফোন নেই বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানেন না, তারাও যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে এখানে নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন অবহিতকরণ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্টানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ‘সুরক্ষা’য় অনলাইনে নিবন্ধনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আগামী ২৭ তারিখ বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ঠিক সেই সময়েই আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশনটাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। তাহলে যেটা হবে তখন এটা উন্মুক্ত হবে। তার আগ পর্যন্ত কিন্তু এই www.surokkha.gov.bd সেটাও রেজিস্ট্রেশনের জন্য উন্মুক্ত নয়, অ্যানড্রয়েড অ্যাপও না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন কার্যক্রমে নিবন্ধনের জন্য একটি ওয়েবপোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুকরা এই ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। পাশাপাশি, ভ্যাকসিন সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম এই সফটওয়্যার দিয়ে করতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পরবর্তীতে যদি মোবাইল অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়, সেজন্য আমরা একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানিয়ে রেখেছি। স্বাস্থ্য অধিদফতর যখন চাইবে তখনই এটি উন্মুক্ত করে দেয়া যাবে। তবে আইওএস ব্যবহারকারীরা এখনই কোনো অ্যাপ পাবেন না। আমরা আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও অ্যাপ তৈরির কাজ চলমান রেখেছি।’

জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক তারা প্রথমে সুরক্ষা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করবেন। এজন্য তাদের একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়া সংক্রান্ত সব তথ্য এই পোর্টালের মাধ্যমেই জানা যাবে। ওয়েবপোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কোনোটিই এখনও উন্মুক্ত হয়নি। এখন আমরা ডেমো ভার্সন নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী যেদিন ভ্যাকসিন দান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, সেদিনই এই ওয়েব পোর্টালটি উন্মুক্ত করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুরক্ষায় নিবন্ধন করতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জন্ম তারিখ। নিবন্ধনের জন্য যে ফরম পূরণ করতে হবে তাতে প্রয়োজন হবে মোবাইল ফোন নম্বর, শারীরিক কোনো জটিলতার তথ্য ও আগ্রহী ব্যক্তির বয়স। নিবন্ধন হয়ে গেলে ভ্যাকসিন দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হবে এসএমএসের মাধ্যমে।’

এ বিষয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘মূলত ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঠিক করে দেওয়া ১৮ ক্যাটাগরির মানুষ অগ্রাধিকার পাবেন। যাদের স্মার্ট ফোন নেই বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানেন না, তারা যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন। ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে এ সংক্রান্ত সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘একটি এনআইডি বা মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিই নিবন্ধন করতে পারবেন। মূলত তিন ধাপে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই একজন ব্যক্তি ভ্যাকসিনর জন্য নিবন্ধন পাবেন। ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের সহযোগীতায় মুলত নিবন্ধনকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা এর সক্ষমতা সম্প্রতি বৃদ্ধি করেছি। এক সঙ্গে পাঁচশজন আগ্রহী বর্তমান প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে পারবেন।’

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

সারাবাংলা/এসবি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন