বিজ্ঞাপন

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য প্রয়োজন সুযোগ সৃষ্টি করা’

January 26, 2021 | 8:27 pm

শাহীনূর সরকার

ঢাকা: সুযোগ পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা যে আত্মনির্ভরশীল হয়ে মানবসম্পদে পরিণত হতে পারেন—তার প্রমাণও দিয়েছেন বেশ কয়েকজন। এমন কয়েকজন জানিয়েছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি করা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সারাবাংলা.নেটের বিশেষ আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাসে’ যুক্ত হয়ে তারা এসব কথা বলেন।

সারাবাংলা.নেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এম এ কে জিলানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি, পার্সনস উইথ সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশন (পিসিপিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক শর্মি রায় এবং ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হেদায়তুল আজিজ (মুন্না)। অনুষ্ঠানের এবারের পর্বের বিষয় ছিল ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ এবং আমরা’।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আশরাফুন নাহার মিষ্টি তার জীবনের গল্প তুলে ধরেন। জানান, ১৪ বছর বয়স থেকে হুইলচেয়ার তার জীবনের সঙ্গী। তারপরও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পার হয়ে এবং বৈষম্যের ভেতর দিয়ে তাকে এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে।

মিষ্টি জানান, ‘বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের চলাফেরার জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। বাস-ট্রেনে ভাড়া অর্ধেক করা হলেও সেখানে হুইলচেয়ার নিয়ে উঠা যায় না। আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে রাস্তায় চলাচল করার জন্য আরেকজন সহযোগী প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যোগাযোগের ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে বিশেষ চাহিদসম্পন্ন মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় সাধারণ মানুষের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তারওপর তারা যদি আত্মনির্ভরশীর না হয়ে অন্যের বোঝা হয় তাহলে সেটা পরিবারের জন্য অনেক বেশি কষ্টের। নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বেশি বেড়ে যায়।’

বিজ্ঞাপন

অনেক পরিবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে ঘর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিনামূল্যে থাকার কোনো জায়গা নেই। তাই এসব মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা খুবই জরুরি। আর তাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারলে সাধারণ মানুষও এর সুফল পাবে বলে মনে করেন তিনি।

মিষ্টি বলেন, আমাদের দেশে আইন ও নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। তাই সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান, ‘যাদের ভাতার প্রয়োজন, তাদের ভাতার ব্যবস্থা করুন। তবে যাদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন, তাদের কর্মসংস্থান দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলুন।

বিজ্ঞাপন

সেইসঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসনকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তাদের অবজ্ঞা, অবহেলা না করে মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

শর্মি রায় নিজেও সেরিব্রাল পালসি বা মস্তিষ্ক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ বিশেষ করে মস্তিষ্কে পক্ষাঘাত বিষয়ক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের নিয়ে সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। আবার পর্যাপ্ত চিকিৎসাও নেই। ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশিরভাগ অভিভাবক বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। কিন্তু এ ধরনের মানুষকে সারাজীবন চিকিৎসা নিতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

শর্মি বলেন, ‘এসব মানুষের বেশিরভাগই বিশেষ স্কুলে যায়। সেখানে তাদের পড়ালেখা সীমিত। অল্প কিছু মানুষ সাধারণ স্কুলে পড়ার সুযোগ পেলেও সেখানে তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়।’

তাই অভিভাবকদের প্রতি শর্মির পরামর্শ, এ ধরনের শিশুকে অবশ্যই নিয়মিত স্কুলে পাঠানো উচিত। সেইসঙ্গে তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

২০০৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্পাইনাল কর্ডে ইনজুড়ি হয়ে হুইল চেয়ার নেন মো. হেদায়তুল আজিজ মুন্না। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের মূল স্রোতধারায় আসতে পারলে তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে। বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এ ধারাবাহিকতা থাকলে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীরা অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

[প্রসঙ্গত, সপ্তাহের শনি, সোম ও বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সারাবাংলা ফোকাস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সারাবাংলা.নেটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ]

সারাবাংলা/এসএসএস/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন