বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: বিএনপি নেতা হাবিবসহ ৩৪ জন কারাগারে

January 27, 2021 | 11:32 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৪ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবির এ আদেশ দেন। এদিন ছিল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিন। মামলাটিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত রয়েছে।

জামিন বাতিল হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন— কলারোয়ার দুইবারের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, তিন জন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন, রকিবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

বিজ্ঞাপন

এ মামলায় অভিযুক্ত ৫০ জন আসামির একজন টাইগার খোকন অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ১৫ জন।

বুধবার মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, সিনিয়র আ্যাডভোকেট হায়দার আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট নিজামউদ্দিনসহ অন্যরা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টোসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের এস এম মুনীর আদালতে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তুলে ধরে বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সব আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ন্যায়বিচার হলে তাদের সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, মামলার এজাহার, পুলিশের অভিযোগপত্র ও সাক্ষীদের জবানবন্দির মধ্যে তথ্যগত ব্যাপক গরমিল ও অসংলগ্নতা রয়েছে। সাক্ষীরা কোনোভাবেই আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, ঘটনার দিন সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব কলারোয়ায় উপস্থিত ছিলেন— তারা এটিও প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে ন্যায়বিচার হলে হাবিবসহ সব আসামিই খালাস পাবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমানের পত্নী মাহফুজা বেগম পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকালে সাতক্ষীরা গিয়েছিলেন ওই সময়কার বিরোধী দলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কলারোয়া উপজেলার হিজলদি গ্রামের ওই নারীকে দেখে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার পথে সকাল ১১টায় কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

হামলাকারীরা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছুঁড়ে। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই সময় গাড়িবহরে থাকা ১৫/২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ কয়েকেজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— ফাতেমা জাহান সাথী, জোবায়দুল হক রাসেল, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, শহিদুল হক জীবন, আবদুল মতিন। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।

এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোসলেমউদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশি আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরে মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। এসময় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন