বিজ্ঞাপন

বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ব: রেজাউল করিম

January 28, 2021 | 4:51 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করা আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহদ্দারহাটে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রেজাউল। রাতে ভোটের ফল ঘোষণার পর সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় প্রথমেই হাত দেব। তারপর রাস্তাঘাট সংস্কার ও মশা উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করব। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা, কিশোর গ্যাং বন্ধে মাদক নির্মূল, নগরীর বিভিন্ন অংশে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স ও উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, সন্ত্রাস দমন এবং নগরীতে ব্রিটিশবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণ করা হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা নিরসনে স্থানীয় মহল্লার প্রতিনিধি, সব শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ এবং কাউন্সিলরদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

নগরীর সমস্যা সবার সঙ্গে পরামর্শ করে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে রেজাউল বলেন, ‘নগরবাসীকে কথা দিতে পারি, প্রতিশ্রুতি পূরণের কঠোর পরিশ্রম করব। স্পষ্ট বলতে চাই, অন্যায়-অনৈতিক কাজে কখনো ক্ষমতাকে ব্যবহার করব না। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। কোনো লোভ, অনৈতিকতা আমাকে এক ইঞ্চি বিচ্যুতি ঘটাতে পারবে না। কখনো লোভ-লালসা ছিল না, এখনো নেই। কখনো নীতি বিসর্জন দিইনি। স্বকীয়তা নিয়ে কাজ করে যাব।’

জলাবদ্ধতা নিরসন ও চিকিৎসা সেবার সংকট নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে রেজাউল বলেন, ‘ছয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে। খালগুলো দখল হয়ে গেছে, উদ্ধার করতে হবে। আমি নিজেও জলাবদ্ধতার শিকার। করোনায় অনেক প্রিয়জনকে আমরা হারিয়েছি। যাদের করোনা হয়নি তারাও সেবা পায়নি- শুরুতে এমন পরিস্থিতি ছিল। ৪১টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের তাগাদা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাব আছে। সুন্দর রাস্তা করার দুমাসের মধ্যে কোনো সংস্থা আবার কাটে। উন্নয়নের জন্য কাটতে হবে। কিন্তু কেন সরকারি টাকার অপচয় হবে? আগে মেয়ররা উদ্যোগ নিলেও সেবা সংস্থাগুলো যে প্রতিনিধি পাঠায় এতে ফাঁক থেকে যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব, যেন দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারি। সমন্বয় সভায় সবাই যেন উপস্থিত থাকে সে চেষ্টা করব। সমন্বয়ের অভাবে নগরবাসী যেন কষ্ট না পায়।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মেয়র পদে তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করায় নগরবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রেজাউল বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। তা বিবেচনায় নিয়ে জননেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ বিজয় আমার নয়, এ বিজয় চট্টগ্রামবাসীর। এ বিজয় বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকার। মানুষ আমাকে এত পছন্দ করেছে আমি অভিভূত। মানুষ ভালোবেসেছে, মর্যাদা-সম্মান দিয়েছে। কথা দিতে পারি, সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন

২২ শতাংশ মানুষের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ বজায় ছিল। কর্মজীবী মানুষ ভোটের চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দেয়। সরকারি ছুটি না থাকায় কিছু সমস্যা হয়েছে। এমন কোনো দেশ নেই যেখানে ১০০ বা ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে।’

প্রায় তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স, জলাবদ্ধতা, গ্যাস-পানি সংকটসহ আঞ্চলিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন আমি আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। চাক্তাই খাল সংগ্রাম কমিটির আমি চেয়ারম্যান ছিলাম। এর মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। করোনার সময়ে পাড়ায়-পাড়ায়, বস্তিতে গিয়ে যতটুকু সামর্থ্য ছিল তা নিয়ে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আইসোলেশন সেন্টার করেছি। মানুষ মনে করেছে- আমি তাদের বিপদের বন্ধু। আমি প্রচার বিমুখ। কিন্তু মানুষ আমাকে মনে রেখেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ দলটির নেতারা ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল মেয়র পদে বিজয়ী রেজাউলের বাসায়। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষেরা। মিছিল-স্লোগানে বিজয়ের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।

২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন