বিজ্ঞাপন

চিন্তাশীল দার্শনিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

January 29, 2021 | 11:30 am

আঞ্জুমান রোজী

আমরা সবসময় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে একজন সমাজকর্মী এবং নারীবাদী হিসেবে জেনে এসেছি। এর বাইরেও তিনি একজন চিন্তক ছিলেন, ছিলেন একজন দার্শনিক। রোকেয়ার চিন্তার দূরদর্শিতাই আজ তার প্রমাণ। বিবেক ও যুক্তি অবলম্বন করে রোকেয়া কর্মে ব্রতী হয়েছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশে এমন যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল ব্যক্তি বড়ই বিরল। বিংশ শতকের প্রথম চল্লিশ বছরব্যাপী বিবেক নির্ভর, যুক্তি নির্ভর, বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাচেতনার ও বুদ্ধিবৃত্তির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছিল। সেইসময় রোকেয়ারও আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৪০-৪৭ সালের পর পাকিস্তান আন্দোলন সরব হলে অন্ধ আবেগ, অস্থিরতা, উত্তেজনা, ধূর্ততা, চতুরতা প্রবল হতে শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে রক্ষণশীল চিন্তাচেতনা, অবিমৃষ্যকারীতা আরো বেগবান হয়। কথার সঙ্গে কাজের সঙ্গতি রেখে নিবেদিত প্রাণ নিয়ে যুক্তি নির্ভর ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজসংস্কারমূলক কাজ করার চিন্তাচেতনা এখন তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। যার সম্পূর্ণটাই রোকেয়ার মধ্যে ছিল। তা-ই আজকের প্রেক্ষিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের কাছে অর্থাৎ একশ বছর পরেও অপরিহার্য হয়ে উঠছেন।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বঙ্গসমাজের প্রথম নারীবাদী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম সমাজের অশিক্ষিত, অবলা নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি আলোকবর্তিকা হয়ে এসেছেন। ১৮৮০ সালে রোকেয়া এক কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মীয় গোড়ামিপূর্ণ অন্ধকার সময়ে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময় নারীদের অবস্থা ছিল অন্ধকার যুগের মতো ৷ শিক্ষাহীন, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, জিজ্ঞাসাহীন অধঃপতিত সমাজের পীড়ন-অত্যাচার সহ্য করে তিনি মুক্তির পথ খুঁজেছিলেন। দৃঢ়চেতা এই নারী প্রচলিত ব্যবস্থার কাছে আত্মসমর্পণ না করে উন্নততর নতুন সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের আকাঙ্খায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করে গেছেন। রোকেয়া নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তাঁর সমস্ত কর্মকাণ্ড জুড়ে ছিল নারীর অগ্রযাত্রার বিষয়। কিন্তু তাঁর কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে প্রতিভাত হয় যে, তিনি নারীপুরুষ সকলের জন্য এক উন্নত সমাজ তৈরির কাজ করেছেন। রোকেয়ার প্রাসঙ্গিকতা বর্তমান সময়ের দাবীতে তুলে ধরা এবং সেইসাথে তাঁর সার্বিকতা নিয়ে মূল্যায়ন করা আমাদের একটি গুরু কাজ। এই প্রেক্ষিতে আজকের বাংলাদেশে নারীবাদীদের কাছে রোকেয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা রাখে, সেই বিষয়টাও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে বুঝতে হলে প্রথমে তাঁর মননের জগৎটা বুঝতে হবে। তাঁর চিন্তাচেতনা, দর্শন অর্থাৎ সমাজ নিয়ে, বিশেষ করে নারীর অবস্থা নিয়ে তাঁর যে মানসিকতা ছিল, তা বুঝতে হবে গভীর অন্তরদৃষ্টি দিয়ে। রোকেয়ার মানসিকতার দৃঢ়তা,একাগ্রতা এবং তাঁর কাজের প্রতি যে একনিষ্ঠতা, তা অনেকাংশে যুগে যুগে আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। তাঁর কার্যাবলী বিশ্লেষণ করলে এবং তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি গভীর মনযোগ দিয়ে পড়লে বিশেষভাবে এমনটাই প্রতিপাদ্য হয়। যার কারণে রোকেয়া আজও আমাদের কাছে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে পূর্ণাঙ্গ একটি ইন্সটিটিউট মনে করি। তাঁর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, দর্শন, সমাজসংস্কারমূলক কাজ, সাহিত্যরচনা এবং তাঁর ব্যক্তিজীবন ও প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ, এসবের সবটুকু জুড়েই তিনি একটি ইন্সটিটিউট যেখান থেকে আমরা অনেককিছু শিখতে পারি, পেতে পারি পথনির্দেশনা। তিনি স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখেন। তাঁর দৃঢ় সংকল্পই ছিল নারীমুক্তির পথ তৈরি করা। আজ আমরা একশ বছর পর তাঁর সেই পথ ধরেই হেঁটে যাচ্ছি। যদিও পথের বাঁক ঘুরেছে নানাভাবে। চিন্তাচেতনায়, জীবনযাপনে এসেছে পরিবর্তন, তারপরও বলবো রোকেয়ার দেখিয়ে দেওয়া পথটাই আমাদেরকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে।

বিজ্ঞাপন

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মনস্তাত্ত্বিক দিক, দর্শন এবং চিন্তাচেতনার জগৎ বুঝতে হলে পড়তে হবে তাঁর রচিত প্রতিটি বই৷ সেইসঙ্গে পড়তে হবে তাঁর নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা বিভিন্ন জায়গায় প্রেরিত পত্রগুলো। যদিও তাঁর সবকিছু সেভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ 'রোকেয়া-জীবনী' নামে রোকেয়ার একটি জীবন আলেখ্য লিখেছিলেন। একবার এই বইটি লেখার সময় শামসুন্নাহার রোকেয়ার কাছে গিয়েছিলেন কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য। তখন রোকেয়া বলেছিলেন, "আঞ্জুমানে কাগজপত্র আলোচনা করিয়া দেখো, আমার জীবনের বহু কথা তারই মধ্যে খুঁজিয়া পাইবে।" 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' হলো বাংলার প্রথম মুসলিম মেয়েদের একটি সংগঠন, যা শিক্ষাহীনতা ও অর্থনৈতিক পরাধীনতা থেকে মেয়েদের মুক্তির জন্য ১৯১৬ সালে রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখান থেকেই বোঝা যায় তিনি কথার চেয়ে কাজ করেছেন বেশি অর্থাৎ তাঁর চিন্তা ছিল কর্মমুখী।

সেইসাথে লিখে গেছেন প্রচুর। যদিও তাঁর বইয়ের সংখ্যা পাঁচ। তবে প্রতিটি বইয়ের উপজীব্য বিষয় ছিল নারী। বর্তমানে রোকেয়া রচনাবলী পাঠে মনোযোগী হওয়া আমাদের জন্য অত্যাবশকীয় একটি কাজ। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে, মহৎ ব্যক্তিত্ব গড়নের দিক থেকে রোকেয়া পাঠ এবং তাঁকে অনুধাবনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোকেয়ার দুর্লভ মহত্ত্ব ও অনন্য ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার গভীর মনযোগ টানে। যদিও সামাজিকভাবে তাঁকে সেইভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। উনবিংশ শতকের শুরুতে পশ্চাৎপদ সমাজে থেকেও তাঁর উদ্দীপক কৌতূহল, অনুসন্ধিৎসু, উচ্চাকাঙ্খী, বুদ্ধিদীপ্ত, বিবেকবান, আবেগময়, চিন্তাশীলতা, মার্জিতরুচি, উদ্যোগী, পরিশ্রমী, কর্মঠ, সুউন্নত ব্যক্তিত্বকে সমগ্রভাবে আমরা আজও ধারণ করতে পারিনি। ধারণ না করার পেছনে সময় একটি বিরাট ফ্যাক্টর। সময়ের ধারাবাহিকতায় অনেককিছুর প্রেক্ষাপট বদলে গেছে ঠিকই। তবে সমাজসংস্কারের জায়গায় মৌলিক ভাবনা বা চিন্তাচেতনার বিষয়টি একই রয়ে গেছে। এখনো নারী অন্দরমহলে আসবাবপত্রের মতো আছে। এখনো নারী প্রত্যন্ত অঞ্চলে অশিক্ষিত কি অর্ধশিক্ষিত। শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চল বলবো কেন, অনেক শহুরে নারী বন্দীদশায় জীবনযাপন করছে৷ তাদের শিক্ষা থাকলেও মননের জায়গাটা, চিন্তার জায়গাটা অর্থাৎ মানসিকভাবে তারা এখনো স্বাবলম্বী হতে পারেনি। রোকেয়া নারীর মননের এবং বোধের জায়গায় কাজ করেছেন। মানসিকভাবে নারীদের জাগিয়ে তোলার জন্য তাঁর সবরকম কর্মযজ্ঞ চালিয়েছেন। নারী নির্বল, অথর্ব এমন ভাব থেকে নারীকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন। নারীরও মন আছে, ইচ্ছা আছে, স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার আছে, এমন চেতনা নারীর মধ্যে জাগ্রত করতে ব্রত ছিলেন। মূলকথা রোকেয়া নারীকে অধঃপতিত সমাজের মূল সমস্যা মনে করেছেন। নারী যদি নিজে না জাগে কারোর সাধ্য নাই নারীকে জাগিয়ে তোলে। ঠিক এই জায়গা থেকে রোকেয়ার সমস্ত কার্যাবলী বিস্তৃত। কি লেখনী, কি সাংগঠনিক কাজ কিম্বা স্কুল পরিচালনা, তার সবটুকু জুড়েই ছিল নারীকে মানসিকভাবে শিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী করে তোলা।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বঙ্গীয় সমাজ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার নারীপুরুষ উভয়েই। যার সবটুকুই ছিল সামাজিক প্রথা এবং ধর্মীয় গোড়ামিতে মোড়া। প্রথার পুরোটাই মূলত প্রয়োগ করা হতো নারীর উপর। সেই অর্থে পুরুষ অনেকটাই স্বাধীন ছিল। এই বিষয়গুলো রোকেয়া অল্প বয়স থেকে পর্যবেক্ষণ এবং অনুধাবন করতে শুরু করেন। ঠিক তখনই গোপনে রাতের আঁধারে বড় ভাইয়ের কাছে শিক্ষানবিশ হলেন। সেইসময় নারীদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না, ছিলো না তাদের শিক্ষা লাভের অধিকার। কিন্তু তাঁর ছিল অগাধ জ্ঞানপিপাসা। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তিনি না পেলেও তাঁর জ্ঞানপিপাসাই অন্তর্দৃষ্টি খুলে দেয়। তখন তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে নারীর মানবেতর অবস্থা । এই মানসিকতা থেকে রোকেয়া নারীর প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেন। কিন্তু তিনি বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছেন, পুরুষ যতটা না নারীকে নিয়ন্ত্রণ করে তারচেয়ে বেশি নারী নিজেই অন্যের অধীনে থাকতে ভালোবাসে এবং স্বাচ্ছন্দবোধ করে। যেখানে নারীকে অসহায়, অথর্ব ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না৷ নারীর এই মানসিক বন্দীদশা বলি আর অভ্যস্ততা বলি, তা থেকে বের করে আনার জন্যই মূলত রোকেয়ার যত কার্যক্রম ছিল।

বিজ্ঞাপন

রোকেয়ার জীবন ছিল কর্মমুখর। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মাস পরেই তিনি বিহারের ভাগলপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপন করেন। কিন্তু সেখানে তিনি টিকতে পারেননি স্বামীর আগের ঘরের মেয়ে এবং মেয়ে জামাইয়ের চক্রান্তের কারণে। ১৯১০ সালে শেষভাগে চিরদিনের জন্য কলিকাতায় এসে চরম প্রতিকুল পরিবেশে কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আবার স্বামীর নামেই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। রোকেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নারীকুলকে শিক্ষিত করতে হবে। তাঁর জ্ঞানতৃষ্ণা এবং অধ্যাবসাতেই প্রকাশ পেয়েছিল নারীশিক্ষা বিস্তারের কার্যক্রম এবং তাঁর সমাজ হিতৈষীর ভাব। মৃত্যুর পূর্বে স্কুলটিকে মেয়েদের হাইস্কুলে উন্নীত করেন এবং তাঁর মৃত্যুর পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করে। কলিকাতার লর্ড সিংহ রোডে আজও স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত আছে। রোকেয়ার ছিল অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা। তাঁর নেতৃত্বে এই স্কুলটি গতানুগতিক ধরণের পরীক্ষা পাসের প্রস্তুতিকেন্দ্র মাত্র ছিল না; শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ ব্যক্তিত্ব ও কর্মক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে তিনি স্কুলের স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছিলেন। সেখানে পুঁথিগত শিক্ষার ব্যবস্থা যেমন করেছিলেন তেমনি বাস্তবসম্মত নানাবিধ ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থাও করেছিলেন। এমন বহুমুখী কর্মব্যস্ততার দিকে লক্ষ্য করলে তাঁর দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ভাববিলাসী তো ছিলেনই না। বরঞ্চ গুরু গম্ভীর ভাবের মধ্যে থেকে উন্নত জীবন ও সমাজ প্রতিষ্ঠা কল্পে তাঁর অন্তর্গত তাড়নায় লেখনীতে সিদ্ধহস্ত হন। তাঁর রচনা সাহিত্য, যুগের কালোত্তীর্ণ চিন্তা ও দর্শনের কথা বলে। রোকেয়ার রচনারীতিতে চিন্তাচেতনায় দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। যা বাঙালি সমাজের প্রগতির ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর রচনাবলি পড়তে গেলে মার্জিত রুচি, মাধুর্যমণ্ডিত, উচ্চাকাঙ্খী এক কঠিন ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য লাভ করি। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অধিকন্তু আধুনিক বাঙালি সমাজের তিনিই জাগরণের প্রতীক। মানসপ্রকৃতিতে ও চিন্তায় আধুনিকতা বলতে যা বোঝায় বাঙালি সমাজে মাতৃভাষায় তিনিই প্রথম উল্লেখ্য প্রবক্তা। বিশেষ করে আধুনিক মুসলিম সমাজের কাছে। বর্তমানেও রোকেয়া পাঠে মনোযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন