বিজ্ঞাপন

বেওয়ারিশ প্রাণীদের ১ যুগ ধরে খাবার দিচ্ছেন রাবির গাজিউল

January 31, 2021 | 10:22 am

লোকাল করেসপন্ডেন্ট

আবু সাঈদ সজল, রাবি: এভাবে ভাবেন কয়জন? নগরে বসবাস করা বেওয়ারিশ প্রাণীরও খাবার প্রয়োজন। প্রয়োজন চিকিৎসার। কিন্তু এভাবেই ভেবেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নিম্নমান সহকারী গাজিউল ইসলাম। টানা ১২ বছর ধরে প্রতিদিন ক্যাম্পাসের পশু-পাখির জন্য রান্না করছেন তিনি। তার সকাল শুরু হয় এসব প্রাণীদের সঙ্গে। বেতনের বড় অংশ দিয়ে চলে তার এই বিশাল কর্মকাণ্ড।

বিজ্ঞাপন

ভোর ছয়টায় বাসা থেকে মোটরসাইকেলে ক্যাম্পাসে আসেন গাজিউল ইসলাম। সাংস্কৃতিক কেন্দ্র টিএসসিসিতে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টায় রান্না শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় কুকুর, বিড়ালকে খাওয়ান। টিএসসিসি, রাকসু ভবন, শহিদুল্লাহ কলা ভবন, শহীদ মিনারসহ প্রায় ১৫ জায়গায় ঘুরে ঘুরে খাবার দেন তিনি। এভাবে আরও দেড় ঘণ্টা সময় লাগে পুরো ক্যাম্পাসের প্রায় ৫০টি কুকুরকে খাওয়াতে।

তার সঙ্গে গিয়ে দেখা যায়, পশু-পাখির সঙ্গে তার এমন সখ্য হয়েছে যে, নাম ধরে ডাকলেই কাছে চলে আসছে প্রাণীগুলো। ডাবু, লালু, শেফালিসহ বিভিন্ন নামে ডাকছেন প্রাণীগুলোকে।

বিজ্ঞাপন

খাবারের উপাদান জানতে চাইলে গাজিউল ইসলাম বলেন, চাল, গরুর মাংসের চর্বি আর ডাল দিয়ে তৈরি হয় খিচুড়ি। প্রতিদিন ১০ কেজি চাল এবং মাসে ২০ কেজি চর্বি ব্যবহার করেন। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া তার বাসায় আরও ১৪টি কুকুরসহ আশপাশের কয়েকটি প্রাণীর জন্য রান্না করেন তার মেয়ে।

কীভাবে চলে এই খরচ? উত্তরে বলেন, করোনার আগ পর্যন্ত নিজের মাসিক বেতনের প্রায় অর্ধেক খরচ হতো এসব প্রাণীর পেছনে। করোনা শুরুর তিন মাস পর হঠাৎ দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে। তিনি তার সঙ্গে কাজ করার অনুমতি চান। সেই থেকে অধ্যাপক সাহা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান, টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড.হাসিবুল আলম প্রধান ও সহকারী পরিচালক আহসান হাবীব, রবীন অনেকেই কাজগুলো দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের বেতনের টাকায় কুকুর বা প্রাণীদের খাবার দিচ্ছেন। করোনার ঝুঁকির মধ্যেও বাদ দেননি কাজটি। অনেকে ‘মানসিক রোগী’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন তাকে। এজন্য মন খারাপও হয়েছে। তবে খাবার দেওয়া ছাড়েননি গাজিউল।

কবে কখন কেন এই উদ্যোগ? গাজিউল বলেন, ‘‘একদিন ঝিরঝিরে বৃষ্টির সময় এক মেয়েকে মেরুদণ্ড ভাঙা অসুস্থ একটি কুকুর ছানাকে ভাগাড়ে রেখে যেতে দেখলাম। শীতে বাচ্চাটি কাঁপছিল। তাই তাকে ফেলে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে বলেছিল, ‘এটা বাড়ি নোংরা করে। সারাদিন চেঁচামেচি করে।’ পরে ভাবলাম এই পশুগুলোরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এদের সবাই যদি তাড়িয়ে দেয় তাহলে যাবে কোথায়? এরপর কুকুর ছানাটিকে বাসায় নিয়ে ডাক্তার দেখায়। ডাক্তার বললেন, ‘এটা বাঁচবে না।’ হাল ছাড়েননি এই প্রাণীপ্রেমী। ওষুধ খাওয়ালেন। সফলও হয়েছিলেন। কুকুরটির সুস্থ হতে প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় লেগেছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এসব প্রাণীর দেখভাল করার জন্য সৃষ্টিকর্তা দায়িত্ব দিয়েছেন। বিবেকের দায় থেকেই কাজটি করি। এটাই ভালো লাগে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন