বিজ্ঞাপন

হুমায়ুন আজাদ হত্যা: আংশিক যুক্তি ৪ মার্চ

January 31, 2021 | 4:41 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রথাবিরোধী লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় আংশিক যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীন এ তারিখ ধার্য করেন।

এদিন কারাগারে থাকা দুই আসামির পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। তাদের যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় আগামী ৪ মার্চ পরবর্তী যুক্তির জন্য দিন ধার্য করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, আসামি জেএমবির সুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, আনোয়ার আলম গ্রেফতার হওয়ার অনেকদিন পর তাদের আদালতে হাজির করা হয়। কেনো এতো দেরি হলো সেই বিষয়ে কোয়ারির আদালত জানতে চেয়েছেন।

এড় আগে গত ১৮ জানুয়ারি ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সিএমএইচে ও ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান।

ওই ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়। এছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও অপর একটি মামলা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর এই মামলার বাদী মো. মঞ্জুর কবির মামলাটির বর্ধিত তদন্তের আবেদন করলে ওই বছরের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বিভিন্ন সময় মামলাটি তদন্ত করেছেন রমনা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর কাজী আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমান ও লুৎফর রহমান।

২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর আসামি আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পাঁচ দফায় বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ওই মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

এর আগে, ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটে আবুল আব্বাস ভূঁইয়া ও গোলাম মোস্তফা নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- জেএমবির সুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, আনোয়ার আলম, হাফিজ মাহমুদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।

আসামিদের মধ্যে সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু (পলাতক) ও হাফিজ মাহমুদ মারা গেছেন।

এদিকে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় এদিন সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আনোয়ার ও কনস্টেবল রহিম আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন একই আদালত।

সারাবাংলা/এআই/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন