বিজ্ঞাপন

কোটি টাকার সোনা ডাকাতি: জড়িতদের একজন বহিষ্কৃত সেনাসদস্য

February 1, 2021 | 12:23 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে তাঁতীবাজারের সোনা ব্যবসায়ী অর্জুন হালদারের কাছ থেকে সোনা ছিনিয়ে নিয়েছিল একদল ডাকাত। ওই সময় অর্জুন হালদারের কাছে থাকা ট্রলিতে ছিল প্রায় ১৬৬ ভরি সোনার অলংকার, যার বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

প্রায় পাঁচ মাস পর ওই ঘটনায় জড়িত আট জনকে গ্রেফতার করেছে এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর পিবিআই জানতে পারে, বহিষ্কৃত সেনাসদস্যও রয়েছে এই ডাকাত দলে।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপু্রে রাজধানীর উত্তরায় পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গ্রেফতার আসামিরা আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করত। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্যের নাম আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে বহিষ্কৃত এক সেনাসদস্যের নামও পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বাকি সদস্যদের নাম প্রকাশ করছি না।

এসপি খোরশেদ আলম বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ডাকাত চক্রের চার জনকে (সুরেশ, মিঠুন, উজ্জ্বল ও মিহির) গ্রেফতার করে পিবিআই। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফের অভিযান চালিয়ে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে চক্রের আরও চার সদস্যকে (সোহেল আহমেদ পল্লব, সাবেক সেনা সদস্য ফারুক হোসেন, শংকর চন্দ্র পাল ও মিঠুন) গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেফতার আট জনের মধ্যে ফারুক হোসেন নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন বহিষ্কৃত সদস্য রয়েছেন। তিনি করপোরাল হিসেবে বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। জাতিসংঘের একটি মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন। এ চক্রের গ্রেফতার আরেক সদস্য অপারেশনাল কাজে অংশ নেওয়া সোহেল আহমেদ পল্লব। ২০১৮ সাল থেকে ডাকাতির কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫-৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে তার নেতৃত্বে থাকা এই চক্রটি।

তিনি বলেন, চক্রটিকে ধরতে অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আরও এক সাবেক সেনাসদস্যের এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই। তাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া সাবেক পুলিশ সদস্যও জড়িত রয়েছেন বলেও তথ্য পাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা জানান, চক্রটি তিন ধাপে ডাকাতির কাজ করত— তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট ব্যক্তির সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া ও লুণ্ঠিত মালামাল বাজারে বিক্রি করা। বহিষ্কৃত সাবেক সেনাসদস্য ফারুক হোসেন, মিঠুন চক্রবর্তী ও সুরেশ হালদার ডাকাতির কাজে তথ্য সংগ্রহ করতেন। অপারেশনাল দায়িত্বে ছিলেন সোহেল আহমেদ পল্লব, সহযোগী হিসেবে ছিল মিঠুন, উজ্জ্বল, মিহির। তাদের লুণ্ঠন করা চোরাই সোনা কিনতেন তাঁতীবাজারের আরেক ব্যবসায়ী শংকর চন্দ্র ঘোষ।

এসপি বলেন, সোনা ডাকাতির প্রায় দেড় মাস পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা করা হয়। আদালত মামলাটির অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা জেলার পিবিআইকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারীদের কাছে ঘটনাটি একটি ডাকাতির ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ভুক্তভোগীকে সাভার মডেল থানায় ডাকাতির মামলা করার পরামর্শ দেয় পিবিআই। এরপর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ওই ভুক্তভোগী সাভার মডেল থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

এসপি খোরশেদ আলম বলেন, ওই মামলার পরদিন (১৪ জানুয়ারি) শক্তিশালী গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পরিচয়ে সোনা ডাকাত চক্রের সদস্য সুরেশ চন্দ্র হালদার (৪৮), মিঠুন মজুমদার ওরফে মিঠু (৩৩), উজ্জ্বল চন্দ্র দাস (৩২) ও মিহির দাসকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি বলেন, এই চক্রটিকে ধরতে অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ চক্রটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এ চক্রে আরও ১৫ জনের মতো সদস্য রয়েছেন। এই চক্রটি বিশেষ করে তাঁতীবাজারের সোনা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে বিভিন্নভাবে ডাকাতি করে আসছিল। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন