বিজ্ঞাপন

যুবলীগ নেতার নামে ৪ মাসে ১৬ মিথ্যা মামলা— অভিযোগ পরিবারের

February 1, 2021 | 9:20 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মাত্র চার মাসের ব্যবধানে দিনাজপুর জেলা যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের বিরুদ্ধে পুলিশ ১৬টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, এক মামলায় জামিন হলে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খলিলুল্লাহকে কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে শেষে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মিল্টনের বাবা হাবিবুল্লাহ আজাদ এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় মিল্টনের মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিল্টনের বাবা আজাদ অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আমরা থাকি। আমার ছেলে মিল্টন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে দিনাজপুর শহরে ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসার পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতিও করে। গত বছরের ৫ অক্টোবর মিল্টন ব্যবসার কাজে ঢাকায় যায়। সাত দিনের মাথায় পুলিশ দিনাজপুরের বাসায় ও গ্রামের বাড়ি খানসামায় তার খোঁজখবর নিতে শুরু করে। মিল্টনকে না পেয়ে আমার পুত্রবধূকে নানানভাবে মানসিক নির্যাতন শুরু করে। গত ২০ অক্টোবর পুলিশ সুপারের সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করলেও পুলিশ সুপার মিল্টনকে সাক্ষাতের সুযোগ দেননি। এরপর গত ২০ নভেম্বর ঢাকা থেকে মিল্টনকে গ্রেফতার করে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরগামী একটি ফ্লাইটে করে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

মিল্টনের বাবার অভিযোগ, মিল্টনকে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। হাতকড়া পড়িয়ে পুরো শহর ঘুরানো হয়। তার বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর ও খানসামা থানায় একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে বলে খবর পান তারা।

আজাদ বলেন, ২০ অক্টোবর মামলার আগে মিল্টনের বিরুদ্ধে দিনাজপুরসহ বাংলাদেশের কোনো থানাতেই মামলা তো দূরের কথা, একটি জিডিও হয়নি। তাহলে কী কারণে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ১৬টির মতো মামলা দেওয়া হলো তার নামে? দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অজ্ঞাত কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সন্তানকে এভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন তারা। কিন্তু সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সাড়া পাননি। আবেদন করার পরও বরং মিল্টনের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি মামলায় জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিননামার কাগজপত্র আদালত থেকে জেল গেটে না যেতেই নতুন কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেল থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না মিল্টনকে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর প্রথম মামলা হয়। খানসামা থানার মামলা নম্বর ৯। ধারা ৪০৬/৪২০/৫০৬ দণ্ডবিধি। ২১ অক্টোবর একই থানায় একই ধারায় দ্বিতীয় মামলা হয় (মামলা নম্বর ১০)। ১১ নভেম্বর তৃতীয় মামলা করা হয় দণ্ডবিধির ৩৮১/১৮৬/৩৮৬/৫০৬ ধারায়। ২৪ নভেম্বর দায়ের করা চতুর্থ মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এভাবে ২০ ডিসেম্বর, ২৩ ডিসেম্বর ও ৫ জানুয়ারি খানসামা থানায় মামলা দেওয়া হয়। যেসব মামলার ধারা প্রায় একই উল্লেখ করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর থানায় ১ নভেম্বর, ১৯ নভেম্বর ও ৩ ডিসেম্বর যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর ধারাও মোটামুটি একই। এর বাইরে দুই থানাতেই আরও যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোতেও চুরি ও প্রতারণার দায়ে একই ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে মিল্টনের বিরুদ্ধে।

মিল্টনের বাবা আজাদ বলেন, কয়েকটি মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, তাদের কেউ চায়ের দোকানি, কেউ মাছ ব্যবসায়ী, কেউ মুদি দোকানদার। মামলার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। কেউ বলেছেন, পুলিশ সই করতে বলায় তারা সই করেছেন। কিন্তু মামলার কথা জানেন না। আবার থানায় ওসির কাছে গিয়ে জানতে চাইলেও ওসি বলেন, তার কিছু করার নেই। সবই ওপরের খেলা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন বলে জানান হাবিবুল্লাহ আজাদ। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতে সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে পুলিশের ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা থেকে আমার ছেলে কারাগার থেকে মুক্ত হবে বলে আশা করছি। আমার ছেলেকে ফিরে পাব আমি। ছোট দুই নাতনী ও পুত্রবধূ ফিরে পাবে পরিবারের অভিভাবক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, আজাদ মিল্টন একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রতারক। চাকরি দেওয়ার নাম করে শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলার তদন্ত চলছে। সবগুলো মামলার বাদী সাধারণ মানুষ। তার বাসা থেকে একটি চোরাই গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পুলিশ একটি মামলা করেছে। পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগ করে গ্রেফতার করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, তার ভয়ে দিনাজপুরে কেউ মুখ খুলত না। প্রথম মামলায় যখন সে কারাগারে গেল, এরপর সবাই একে একে মামলা ও জিডি করতে শুরু করলেন। সামনে আরও অনেক ভুক্তভোগী মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার সঙ্গে আরও সহযোগী রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এসপি আনোয়ার হোসেন বলেন, মিল্টনকে পুলিশ কোনো নির্যাতন করেনি। এই অভিযোগ কেউ করে থাকলে পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মনে করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধির সহায়তা নিতে পারেন। তাহলে বিষয়গুলো আরো পরিষ্কার হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন