বিজ্ঞাপন

গ্যাস পেতে আরও ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে উত্তরাঞ্চলবাসীকে

February 6, 2021 | 10:23 pm

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ পিছিয়ে গেছে। ফলে চলতি বছরে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছেন না রংপুর- সৈয়দপুর ও বগুড়াবাসী। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও পাইপলাইন স্থাপনে নদী ক্রসিং সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ পিছিয়ে গেছে। এর সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে। বর্তমানে প্রকল্পটি যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে এটি বাস্তবায়নে আরও অন্তত দুই বছর লাগবে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগসহ অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ২০১৮ সালে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর সৈয়দপুর সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। চলতি বছরের জুনে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার পাশাপাশি পাইপলাইন স্থাপনে নদী ক্রসিং জটিলতায় সেই কাজে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কাজ বন্ধও ছিল দীর্ঘ দিন। ফলে প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারছে না পেট্রোবাংলার অধীন গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তারা। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ২০২৩ সালের মাঝ পর্যন্ত সময় লেগে যাবে বলে মত তাদের।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ১ হাজার পিএসআইজি চাপ সহনীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের জন্য মোট ৫৭৬ একর জমির প্রয়োজন। এরই মধ্যে বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারী— এই চার জেলায় ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো চলছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া এ প্রকল্পে নদী ও খাল ক্রসিং রয়েছে। মোট ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার নদী ও খাল ক্রসিং করে পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। আর সেজন্য ৪৩৬ একর ৮৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হবে। মূল পাইপলাইন অংশে ছয়টি নদী ও দু’টি খাল রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ কাজ অনেক চ্যালেঞ্জের। কিভাবে লাইন স্থাপন করা যায়, তা নিয়ে এখনো ভাবছেন তারা। সব মিলিয়ে এ প্রকল্পের অগ্রগতি এখন অর্ধেকের কাছাকাছি। প্রকল্পটিতে ধীর গতির আরেক কারণ করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকা। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো কাজ শেষ করতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি লেগে যাবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র আরও জানিয়েছে, ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মধ্যে ১৪৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের জন্য গত বছরের অক্টোবরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ডিসেম্বর দরপত্র উন্মুক্ত করে এখন তা মূল্যায়ন চলছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, করোনার কারণেই মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় এ প্রকল্পে মাঠ পর্যায়ে সেভাবে কাজ হয়নি। আবার শিপমেন্টেও দেরি হয়েছে। তাই একবছর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চেষ্টা করা হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও আপাতত খরচ বাড়বে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইন্ডাকশন বার্ডস, কোটিং ম্যাটিরিয়ালস, ফিটিং অ্যান্ড প্লাগ ট্রাম্প, বল ভালভ, গেট ভালভসহ প্রকল্পের মালামাল এরই মধ্যে দেশে চলে এসেছে। আর তা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রকল্প এলাকায় নিয়েও যাওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংযোগ না থাকার কারণে দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে শিল্প কারখানার পরিমাণ প্রত্যাশিত পরিমাণে বাড়েনি। জ্বালানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে এ অঞ্চলের অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও এসব এলাকায় কিছু কারখানা টিকে রয়েছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছে কৃষি পণ্য, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল তৈরির কারখানা ও হিমাগার। এগুলো পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের অবস্থা বেহাল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংযোগ থাকলে জ্বালানি বাবদ বাড়তি খরচ কমে যেত। তাতে করে তারা কম খরচে সেবা দিয়ে নিজেরাও লাভবান হতে পারতেন। এ কারণেই উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের এই প্রকল্পটির দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/টিআর

Tags: , , , , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন