বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ ৪ সপ্তাহ পর

February 7, 2021 | 8:49 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে সে পরিকল্পনাতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। প্রথমে নির্দেশনা ছিল চার থেকে ১২ সপ্তাহ পরে এই ভ্যাকসিনর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের অবস্থা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত পরিকল্পনাকে সাজাতে হচ্ছে। আপাতত ঠিক করা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ চার সপ্তাহ পরে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, চার থেকে ১২ সপ্তাহ পর এই ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল, আমরা এখন চিন্তা করেছি চার সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে দেব।

বিজ্ঞাপন

৮ সপ্তাহ পর ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার হার এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ আর চার সপ্তাহ করলে সেটা ৬২ শতাংশ হয়। তাহলে চার সপ্তাহে কেন আসা হলো? — সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের সময় ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল। আর অন্যান্য ভ্যাকসিনের সময়কাল ছিল ২১ থেকে ২৮ দিন। এটা আসলে একেক দেশের সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত নাইট্যাগ'র (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ) সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি আমরা। যেহেতু ৭০ লাখ ভ্যাকসিন এখন আমাদের হাতে রয়েছে তাই ভ্যাকসিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য চার সপ্তাহ পর থেকে আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করব এবং পর্যায়ক্রমে দুই ডোজই দেওয়া হবে। যাতে করে এই ৭০ লাখ ভ্যাকসিনের যথাযথ ব্যবহার আমরা করতে পারি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপ বলে কিছু থাকবে না। ভ্যাকসিন প্রয়োগ চলমান কর্মসূচি, এটা চলতে থাকবে। চার সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের এক হাজার পাঁচটি হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য রাজধানীর ৫০টি হাসপাতাল ও রাজধানীর বাইরে ৯৫৫টি হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য কাজ করবে দুই হাজার ৪০০ টিম। তবে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সাত হাজার ৩৪৪টি টিম। ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি চলবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম এবং এমআইএস শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশে ২৭ জানুয়ারি প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এদিন ২৬ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এর একদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রাথমিকভাবে ৫৪১ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়।

দেশে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা ৫৬৭ জনের মাঝে তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সারাবাংলা/এসবি/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন