বিজ্ঞাপন

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

February 22, 2021 | 6:46 pm

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপনডেন্ট

বাংলা গানের জগতকে যদি বলা হয় এক অমূল্য রত্ন ভাণ্ডার। তাহলে সেই রত্ন ভাণ্ডারে মণিমুক্তো হয়ে জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান। আর বাংলাদেশের সেই চলচ্চিত্রের গানের ভাণ্ডারকে যেসকল মেধাবীরা করেছেন সমৃদ্ধ তাদের মধ্যে অন্যতম— গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বাংলাদেশের এই খ্যাতিমান গীতিকার গান লেখার পাশাপাশি চুড়ান্ত সাফল্য পেয়েছেন একজন চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবেও। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতকে উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি।

বিজ্ঞাপন

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গান শুধু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নয়, সমৃদ্ধ করেছে আমাদের আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানকেও। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ হাজারেরও অধিক গান লিখেছেন তিনি। বিবিসি বাংলার তৈরি করা করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান।

আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলা গানের এই জীবন্ত কিংবদন্তী’র জন্মদিন। ১৯৪৩ সালের এইদিনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন নামকরা আইনজীবী। বনেদি পরিবারের সন্তান। দাদা ও দাদি দুজনই ছিলেন জমিদার বংশের।

বিজ্ঞাপন

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

বেড়ে উঠেছেন কুমিল্লাতেই। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুমিল্লা জেলা স্কুলে। এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ। বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র গাজী মাজহারুল আনোয়ারের আইনজীবী বাবা চাইতেন ছেলে ডাক্তার হবে। তাই কলেজ শেষ করে ছেলে ভর্তি হলেন ঢাকা মেডিকেলে। কিন্তু ওষুধের গন্ধ, পঁচা-গলা লাশের গন্ধ সহ্য করতে পারলেন না তিনি। বলা যায়, হাসপাতালের দিনযাপন সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধান্ত নিলেন ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দেবেন। আর সেই সময়টাতেই তিনি শুরু করলেন গান লেখা। ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়ে গান লেখার খবর তার বাবার কানে যেতেই বাবা বড় বিষাদ-বেদনা নিয়ে তাকে চিঠি লিখেছিলেন, ‘ইউ আর মাই লস্ট গেম’।

বিজ্ঞাপন

বাবার সঙ্গে সেদিনের সেই ঘটনা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেছেন, “প্রথমত বাবা মানতে পারেননি আমি ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি। তারপর যখন শুনলেন আমি গান লিখে বেড়াচ্ছি খুব হতাশ হয়ে গেলেন। ধরেই নিলেন ছেলের গতি আর হবে না। বড় দুঃখ নিয়ে তিনি আমাকে চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি তার হারিয়ে যাওয়া নাম। তবে সেই কথায় তিনি অটল থাকতে পারেননি। যখন বেশ নাম ডাক হলো একদিন ডাকলেন। কাছে যেতেই বুকে জড়িয়ে নিলেন। বললেন, ‘তুমি কখনোই আমার হারিয়ে ফেলা ছেলে নও’। সেদিন খুব আনন্দ হয়েছিলো। মনে হয়েছিলো যাক, বাবার স্বপ্ন পূরণ না করতে পারলেও তাকে অন্তত লজ্জিত করিনি বোঝা গেল।”

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

বিজ্ঞাপন

১৯৬২-৬৩ সালে মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় প্রথম গান লিখেন তিনি। সেই গানটি ছিল— ‘বুঝেছি মনের বনে রং লেগেছে’, যার সুর করেছিলেন নাজমূল হুদা বাচ্চু ও শিল্পী ছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। এরপর ১৯৬৪ সাল থেকে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে গান লেখা শুরু হয় তার। সেইসময়ে গানপ্রতি ৫০ টাকা পেতেন যা দিয়েই তার পেশাদার গীতিকার জীবন শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি টেলিভিশনের জন্য গান লিখে চলেছেন তিনি।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত হন ১৯৬৫ সালে। সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি দিয়েই চলচ্চিত্রের গান লিখা শুরু হয় তার। এ প্রসঙ্গে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায়, “আমার ওস্তাদ সত্য সাহা। তার স্নেহ-ভালোবাসা আমার জীবনের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। তার হাত ধরেই সিনেমায় গান লেখা শুরু করলাম। মুক্তিযুদ্ধের আগে আগে। সত্য সাহা আমাকে নিয়ে গেলেন সুভাষ দত্তের কাছে। বললেন, ‘আপনার নতুন ছবিতে এ ছেলে গান লিখবে’। সুভাষ দত্ত আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, অল্প বয়স। ভালো করে গোফই উঠেনি। তিনি বিরক্ত হলেন। সত্য সাহার জন্য কিছু বলতেও পারলেন না। আমাকে গানের সিচুয়েশন বুঝিয়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। আমি আর সত্যদা চেষ্টা করে যাচ্ছি। উনি বললেন, ‘একদম টেনশান করবি না। তুই পারবি। জাস্ট সিচুয়েশনটা কল্পনা করে দেখ মনে কি আসে’। ব্যস, লিখলাম প্রথম লাইন, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’। সেটাই সুরে তুললেন সত্যদা। আরও কয়েক লাইন লিখলাম। আমাদের কাছে এসে সুভাষ দা বললেন, ‘এই, ভালোই তো লাগছে জিনিসটা। শেষ করো তাহলে…।” প্রয়াত শিল্পী আঞ্জুমান আরা বেগম ও বশির আহমেদের কণ্ঠে গানটি আজো অবস্থান করছে সেরা বাংলা গানের তালিকায়।

বিজ্ঞাপন

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা অজস্র কালজয়ী গানের মধ্যে অন্যতম একটি গান— ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। যে গানটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রেরণাদায়ক গান হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। যে গানের গ্রহনযোগ্যতা চিরকালীন। এ গান আজো গাওয়া হয় এবং গাওয়া হবে চিরকাল। ‘বিবিসি বাংলা’র তৈরি করা করা শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় এই ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি ১৩তম স্থান লাভ করে। এক সাক্ষাৎকারে এই কালজয়ী গানের সৃষ্টির কথা বলতে গিয়ে গাজী মাজহারুল আনোয়ার জানালেন, “১৯৭০ সালের ৭ মার্চ, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলেন। দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়লো স্বাধীনতার জন্য সেই ডাকে সাড়া দিয়ে। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করলেন ‘জয় বাংলা’ দিয়ে। সেই জয় বাংলার বারুদ ছড়িয়ে গেল সর্বত্র। যেদিন ভাষণ দিলেন সেদিন সন্ধ্যায় ফার্মগেটে একটি স্টুডিওতে বসে আছি। সেটি তখন খুব বিখ্যাত স্টুডিও। বড় বড় সব গানের মানুষদের আনাগোনা। সেখানে ছিলেন সালাহউদ্দিন স্যার। তিনি আমার স্কুলের স্যার ছিলেন। বললেন, ‘জয় বাংলা’ নিয়ে একটা কাজ করতে পারো। এই মুহূর্তে এটা প্রচার করা খুব জরুরি। মানুষকে উৎসাহ দেবে। আমি ভাবতে থাকলাম ‘জয় বাংলা’ নিয়ে কি লেখা যায়। শেষে বাংলা শব্দটা থাকলে ছন্দ মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো শব্দ পাই না। বাংলা, হ্যাংলা....! তারপর সেটাকে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ করে নিলাম। দেখলাম দ্রুতই গান দাঁড়িয়ে গেল। এর সুর-সংগীত করলো আনোয়ার পারভেজ। শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর আব্দুল জব্বার গাইলো। সঙ্গে আরও অনেক শিল্পী ছিলেন। গান তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি শুনে খুব পছন্দ করলেন। বললেন, ‘এই গান দিয়েই যাত্রা করবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’। আর গান প্রকাশ হতেই রাতারাতি সবার মুখে মুখে চলে গেল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’।” স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সূচনা সংগীত হিসেবে নিয়মিত প্রচার করা হতো এই গান।

তার লেখা বহু কালজয়ী গান আমাদের চলচ্চিত্রের গানের ভাণ্ডারের আলাদা এক সম্পদ হয়ে আছে। আঞ্জুমান আরা বেগম, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, বশির আহমেদ, আব্দুল জব্বার, এন্ড্রু কিশোর, সৈয়দ আব্দুল হাদি, কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ আকবর-সহ দেশের অধিকাংশ খ্যাতিমান শিল্পীদের কন্ঠে গাওয়া হয়েছে তার গান। বাংলাদেশের আরেক কিংবদন্তী শিল্পী রুনা লায়লার বাংলা চলচ্চিত্রের গাওয়া প্রথম গান ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে’— লিখেছিলেন এই গুণী গীতিকার।

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবোনা’ গানটি নিয়েও রয়েছে দারুণ এক ইতিহাস। মায়ের চিঠির জবাব দিতে গিয়েই রচিত হয়েছিল এই বিখ্যাত গানটি। এ প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে উনি জানিয়েছিলেন, “আমি পুলিশ-মিলিটারির ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেকদিন বাড়ি যাই না। মা চিঠি লিখলেন। ঝাপসা লেখার একটা চিঠি। মনে হয় লিখতে লিখতে কাঁদছিলেন। কাগজে চোখের পানি পড়েছিলো। হয়তো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কীভাবে কী বলবেন বুঝে উঠতে পারেননি। বকবেন নাকি শাসন করবেন! মাত্র এক লাইনের একটি চিঠি দিলেন। তার জবাব দিতে আমি লিখলাম, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবোনা/ তোমার মাথার খোঁপারই ফুল বাসি হতে দেবোনা/ তোমায় মাগো কারো ঘরের দাসি হতে দেবোনা’। সেটি পরে গান হিসেবে লিখে শেষ করি। গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন।” এমন ঘটনা জড়িয়ে আছে এই মহান গীতিকারের জীবন ও কাজ জুড়ে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা বহু বাংলা গান জুগিয়েছে শ্রোতাদের মনের খোরাক। সমৃদ্ধ করেছে বাংলা গানের ভাণ্ডার। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু গান হচ্ছে— ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’; ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’; ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’; ‘একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’; ‘জন্ম আমার ধন্য হল মাগো’; ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’; ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’; ‘যার ছায়া পড়েছে’; ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’; ‘গীতিময় সেইদিন চিরদিন’; ‘ও পাখি তোর যন্ত্রণা’; ‘ইশারায় শীষ দিয়ে’; ‘চোখের নজর এমনি কইরা’; ‘এই মন তোমাকে দিলাম’; ‘দয়াল কি সুখ তুমি পাও’; ‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে’; ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’; ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’; ‘তুমি আরেকবার আসিয়া যাও মোরে’; ‘সাতটি রঙের মাঝে মিল খুঁজে না পাই’; ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’; ‘অনেক সাধের ময়না আমার’; ‘আউল বাউল লালনের দেশে’; ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’-সহ অজস্র গান।

যার গানে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

‘দেশ চিত্রকথা’ নামে ছবি প্রযোজনা সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। এর মধ্যে কিছু ছবিতে তিনি পরিচালক হিসেবে এবং কিছু ছবিতে প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘জীবনের গল্প’এবং অনন্ত জলিল প্রযোজিত ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’ ছবি দুটিও পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য, সেন্সরবোর্ডের সদস্য, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৯২ সালে ‘উচিৎ শিক্ষা’, ১৯৯৬ সালে ‘অজান্তে’, ২০০১ সালে ‘চুড়িওয়ালা’, ২০০২ সালে ‘লাল দরিয়া’, ২০০৩ সালে ‘কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি’ চলচ্চিত্রগুলোর জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সর্বমোট ৫ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন এই কিংবদন্তী। ২০০২ সালে লাভ করেন ‘একুশে পদক’। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীন দেশের সর্বপ্রথম পুরস্কার ‘প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন তিনি। এছাড়াও ‘এস এম সুলতান স্মৃতি পদক’, একাধিকবার ‘বাচসাস’ পদক-সহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন এই গুণী গীতিকার।

জন্মদিনে দেশের এই বরেণ্য মেধাবী মানুষটিকে সারাবাংলার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

ছবি ও তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অবলম্বনে

সারাবাংলা/এএসজি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন