বিজ্ঞাপন

‘শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি, বৃথা যায় না’

February 22, 2021 | 8:40 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভাষা আন্দোলননের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের শহিদদের রক্ত বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না। এটাই প্রমাণিত সত্য।’

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের সকল চিন্তা হচ্ছে একেবারে তৃণমূলের মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সেখান থেকেই কিন্তু আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যাতে এই বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ হয়। এই বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হয়। এই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, তারা যেন তাদের জীবনটাকে অর্থবহ করতে পারে, উন্নত সমৃদ্ধ করতে পারে।’

‘যে স্বাধীনতা সংগ্রামের যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ভাষা আন্দোলন থেকে। যার পরিণতি হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। ১৫ আগস্ট যদি আমাদের জীবনে না আসতো, তাহলে অনেক আগেই এই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে উঠতো’— বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে তোলার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আজকে আমরা জাতির পিতার সেই পথ অবলম্বন করে, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদাও পাব, সেই স্বীকৃতিও আমরা পাচ্ছি। সেই জায়গায় সেই স্তরে আমরা পৌঁছে গেছি। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ আমরা করতে পারবো।’

জাতির পিতার ১৯৭১ সালের শহীদ দিবসে দিবাগত রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্বক অপর্ণ করে দেওয়ার বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্যের সারমর্ম ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই কথার মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা অন্তত এইটুকু শিক্ষা নিতে পারি, এই ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন না। এই ভাষা আন্দোলন আমাদের বাঙালি জাতি হিসাবে সার্বিক অর্জনের আন্দোলন এবং তিনি সেটা আমাদের করে দিয়ে গেছেন, এটাকে ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পটভূমি তুলে ধরে আরও বলেন, ‘১৯৫২-তে রক্ত দেওয়ার পরেই যে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা বাংলা পেয়েছে তা কিন্তু নয়। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইশতহারে যেমন এই রাষ্ট্রভাষার কথা বলা হয়েছিল। কারণ ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখনই কিন্তু পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র হয়েছিল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে তারা কখনো শাসনতন্ত্র রচনা করতে পারেনি। কারণ যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা সেই যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি।’

তখনো আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন যে শাসনতন্ত্রটা করা হয়েছিল সেখানে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হয়েছিল। কিন্তু সত্তরের নির্বাচনের পর একাত্তরে আমরা যখন বিজয় অর্জন করে, জাতির পিতা আমাদের যে সংবিধান দেন, সেখানে কিন্তু বাংলা ভাষাই ছিল রাষ্ট্রভাষা। সেই মর্যাদাটাই আমরা পাই।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ১৯৫৬ সালে শহীদ মিনার তৈরি করা, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া; এসব কিছু তখন আওয়ামী লীগেই করে। কারণ ৫২ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ২৭ শে ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান, উনি অনশন করেছিলেন, তাই খুব অসুস্থ ছিলেন, তাই ২৮ তারিখ ওনাকে জেল থেকে বের করে আমার দাদা নিয়ে এসে টুঙ্গিপাড়া নিয়ে যান। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসেই আবার ভাষা সংগ্রাম পরিষদ করে তিনি আবার আন্দোলন শুরু করেন। তখনো আবার বক্তৃতায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে হবে। এই দাবি তিনি করে গিয়েছেন।’

এ জন্য আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের জাতির পিতাকে নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন নিয়ে সিক্রেটস ডকুমেন্টস পান্ডুলিপিগুলো পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমরা আমাদের রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা রেখেছি। এটা শুধু আজকে আমাদের না। সারাপৃথিবীতে যাদের মাতৃভাষা আছে, তাদের মাতৃভাষা সংরক্ষণের জন্য এবং তার ওপর যাতে গবেষণা হয় তার জন্য আমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও পরবর্তী মেয়াদে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯-এর সরকার গঠন করি এবং এটার নির্মাণ কাজ শেষ করে আজকে সেখানে আমরা ভাষা জাদুঘর করেছি। সেখানে আর্কাইভ করা আছে। বিভিন্ন মাতৃভাষার নমুনা আমরা সংগ্রহ করে সেখানে রেখেছি এবং এবারে আমরা আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের সময় একটা আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমাদের কিন্তু একটা মহান দায়িত্ব পড়ে গেছে সারাবিশ্বের যত ছোটবড় যেমনি হোক, ভাষাভাষীর মাতৃভাষা সেগুলি সংগ্রহ করা, সেগুলি সেখানে রাখা এবং গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া। পৃথিবীতে কিন্তু এই একটা এত বড় ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হয়েছে। মাতৃভাষা সংরক্ষণের জন্য। এটা কিন্তু আর কোথাও এইভাবে রাখার দৃষ্টান্ত নেই। সেটিকেও আমরা করতে পেরেছি। কাজেই আমাদের শহীদের রক্ত বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না। বৃথা যায় না; এটাই প্রমাণিত সত্য।’

‘লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে-এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা’—বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এই সময়ের মধ্যে গৃহহীন মানুষকে ঘর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের ঘর আমরা আলোকিত করার অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। এছাড়া শিক্ষা-দীক্ষায় সবদিকে বাংলাদেশের মানুষ যেন আরও উন্নত হতে পারে, সমৃদ্ধশালী হতে পারে সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

গণভবন প্রান্ত থেকে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহিলা সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা ও মানবসম্পদক বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা,ধর্ম সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফী।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারাসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন