বিজ্ঞাপন

‘ছাত্ররাজনীতির গৌরব ফেরাতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি’

February 23, 2021 | 4:50 pm

শাহীনূর সরকার

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ছিলো ব্যাপক ভূমিকা। সেই ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা জরুরি বলে মনে করেন বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সারাবাংলা.নেটের বিশেষ আয়োজন সারাবাংলা ফোকাসে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানের এ পর্বের বিষয় ছিল ’স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং ছাত্র রাজনীতি’। সারাবাংলা.নেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন, সাবেক ছাত্রনেতা ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেব, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন এবং ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নুরুল হক নুর বলেন, স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছিলো ছাত্র আন্দোলনে। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্ররাজনীতিতে একটি মারাত্মক অধ:পতন হয়েছে। আর নব্বইয়ের পর থেকে উল্টোপথে হেঁটেছে ছাত্ররাজনীতি। মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি বদলে শুরু হয় পেশীভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি।

বিজ্ঞাপন

আর সে কারণেই গত ৩০ বছরে ছাত্ররাজনীতি কিছু দিতে পারে নি বলে মনে করেন নুর। বর্তমান মূলধারার ছাত্রসংগঠনগুলোকে রেজুরবৃত্তিক সংগঠন উল্লেখ করে নুর বলেন, এখন শিক্ষার্থীদে,র দাবি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে বামপন্থী সংগঠনগুলো।

তবে বর্তমানের এই প্রেক্ষাপটের জন্য ‍শুধুমাত্র ছাত্র সংগঠনগুলোকে এককভবে দায়ী বলে মনে করেন না জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। বলেন, ’এজন্য প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে কিছুটা দায়ী।’

বিজ্ঞাপন

জিয়াউর রহমান ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তোলে উল্লেখে করে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি ও মূল রাজনীতিকে কলুষিত করতে সাম্প্রদায়িক শক্তির অবদানও জনসম্মুখে পরিস্কার। এছাড়া, বৈষয়িক হিসাবনিকাশ ছাত্ররাজনীতিকে মূলস্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন লিপটন।

ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস থাকলেও বর্তমানে প্রজন্ম এটিকে অনেকটা ঘৃণার চোখেই দেখছে। কেন এমনটি হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, এর উত্তর ছাত্র সংগঠনগুলোর খোঁজা উচিত। তবে বাম সংগঠনগুলোতে কিছু মেধাবী যুক্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্বার্থভিত্তিক রাজনীতির কারণে সৎ ও মেধাবীরা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে না এবং এ কারণে অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চান বলে মনে করেন নুর।

ছাত্ররাজনীতি গুরুত্ব হারিয়েছে বা সেখানে কোন অর্জন নেই বলে আমি মনে করেন না মানবেন্দ্র সরকার। বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে সেটাও একটা সাফল্য। কোটা, সড়ক ও ভ্যাট আন্দোলন ছাত্র আন্দোলনের অর্জন।

বিজ্ঞাপন

মানবেন্দ্র বলেন, ছাত্ররা যখন কথা বলতে শুরু করে তখন কোন অপশক্তি টেকার ইতিহাস বাংলাদেশে নেই। কিন্তু এখন অর্থ, ক্ষমতার ব্যবহার করে ছাত্র ও শ্রমিকদের আন্দোলনকে নষ্ট করা নিয়তিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, নেতিবাচক বিষয়গুলোকে সামনে এনে এটাকে আরো কলুষিত করে ছাত্ররাজনীতিটিকে বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন না হওয়া, নির্বাচনের পর কাজ করতে না পারা ও কি কারণে বর্তমান ছাত্ররা ‘উই হেইট পলিটিকস’ বলছে, এসব কারণ ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। বিতর্কিত হলেও ডাকসু নির্বাচন ও অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো হওয়ার প্রতি জোর দেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে, মেধাবী ছাত্রদের রাজনীতিতে আনতে ক্যাম্পাসভিত্তিক বা অধিকারভিত্তিক রাজনীতি চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সারাবাংলা ফোকাসের অতিথিরা। নুর বলেন, ’ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত হলে এবং ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি থেকে বেরিয়ে স্বাধীন, স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারলেই আমরা সেই কাঙ্খিত ছাত্ররাজনীতি পাবো।’

নুর আরো বলেন, সামগ্রিকভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু হলে ছাত্রদের রাজনীতিতে আসার প্রবণতা আরো বাড়বে ও ছাত্ররাজনীতি তথা জাতীয় রাজনীতিতে আগামীতে একটা পরিবর্তন আসতে বাধ্য। এছাড়া পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোও একসময় হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

ক্যাম্পাসগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা না হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কখনোই সুসংহত হবে না বলে মনে করেন মানবেন্দ্র দেব।

এ বিষয়ে লিপটন বলেন, ছাত্ররাজনীতির যে গৌরব তা পুণরুদ্ধার করতে হবে। সেজন্য অবশ্যই ছাত্রদের ক্যাম্পাসভিত্তিক বা অধিকারভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আবার মনোনিবেশ করতে হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে ক্যাম্পাস খুলে দিতে হবে। সব সংগঠন যেনো সেখানে রাজনীতি করতে পারে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে হবে। এই ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয় নেতা তৈরি হবে।’

সারাবাংলা/এসএসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন