বিজ্ঞাপন

মাহবুব তালুকদার কমিশনকে অপদস্থ করার জন্য সবকিছুই করছেন: সিইসি

March 2, 2021 | 5:47 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি মনে করছেন, আলোচিত এই নির্বাচন কমিশনার কমিশনের স্বার্থে কোনো কাজ না করে কমিশনকে অপদস্থ করার কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

সিইসি বলেন, মাহবুব তালুকদার নির্বাচন কমিশনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কোনো কাজ করেন না। তিনি সবসময় ব্যক্তি স্বার্থে এবং কোনো একটি উদ্দেশ্যে সাধন করার জন্য কাজ করছেন। একইসঙ্গে তিনি কমিশনকে অপদস্থ করার জন্য যতটুকু করা দরকার, তাই করছেন। কমিশনের নিয়মিত কাজ না করে আগামীতে বই লেখার জন্য কমিশন থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। এগুলো তিনি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য করেছেন। এটাই তার বিষয়।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

মাহবুব তালুকদার কমিশনকে অপদস্থ করার জন্য সবকিছুই করছেন: সিইসি

বিজ্ঞাপন

বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সিইসিসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা যেসব বক্তব্য রেখে আসছেন, তার অনেক বক্তব্যের সঙ্গেই দ্বিমত পোষণ করেছেন মাহবুব তালুকদার। এই কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না বলেও অভিমত তার। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সভায় তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ও দিয়েছেন। মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্য ও অবস্থান নিয়েই জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে সিইসি প্রশ্ন তোলেন।

সিইসি নুরুল হুদা বলেন, মাহবুব তালুকদার আমাদের এই নির্বাচন কমিশনে যুক্ত হওয়ার পরদিন থেকেই কমিশনের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরছেন। পকেট থেকে একটি কাগজ বের করে সেটি পাঠ করেছেন। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জাতীয় ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার দিনে তিনি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। এটি তিনি সবসময়ই দিয়ে থাকেন। কমিশনের সব সভা শেষেই তিনি এই কাজটি করছেন, আজও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কে এম নূরুল হুদা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। কিন্তু সেটা তিনি দেখেননি। অনেকগুলো কারণে নির্বাচনের সময় কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনেও কারণ থাকে। ঢাকার সিটি নির্বাচনে ভোট কম পড়লেও সেটা ২৯ শতাংশের বেশি ছিল। কিন্তু তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন।

মাহবুব তালুকদার কমিশনকে অপদস্থ করার জন্য সবকিছুই করছেন: সিইসি

বিজ্ঞাপন

সিইসি আরও বলেন, বাগেরহাট ও রংপুরে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ইভিএমে কোথাও কোথাও ৮১ থেকে ৮৫ শতাংশও ভোট পড়েছে। কিন্তু তা তিনি বলেননি। তিনি সবসময় পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে কোথাও কী সমস্যা রয়েছে, তা খুঁজে বের করেছেন। ডাস্টবিন থেকে কাগজ উঠিয়ে জোড়াতালি দিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার কী দায়িত্ব, সেসব বিষয়ে কোথাও কোনো পরামর্শ না দিয়ে সবসময় সমালোচনা করে বেড়ান। তিনি কোন ভালো পরামর্শ না দিয়ে ভোটার দিবসে আগের মতোই এসব কথাবার্তা বলছেন। আমরা আশা করেছিলাম, তিনি ভোটার দিবসে ভোটার নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু তা না করে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। সেগুলো পরে আবার কাটিং করে কতটি মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে, মিডিয়ায় কিভাবে তার বক্তব্য এসেছে— সেগুলো অন্যদের দেখিয়ে বেড়ান।

নির্বাচন কমিশন বা দেশের স্বার্থে মাহবুব তালুকদার কোনো কাজ করেন না অভিযোগ করে সিইসি বলেন, আজ জাতীয় ভোটার দিবসে তিনি ভোটার তালিকা নিয়েই বক্তব্য দেবেন বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু তা করেননি। তিনি পুরনো অভ্যাসমতো রাজনৈতিক একটা বক্তব্য দিয়েছেন। কমিশনকে কতখানি হেয় করা যায়, কতখানি নিচে নামানো যায়, কতখানি অপদস্থ করা যায়— তিনি তাই করছেন।

মাহবুব তালুকদারের এসব বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করলেও তার বাকস্বাধীনতার পক্ষেই নিজের অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যর ‍বিষয়ে আমাদের আপত্তির কিছু নেই। উনি স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তা করতেই পারেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে তো বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। সে ‍অনুযায়ী তিনি তার বক্তব্য রাখতেই পারেন।

এর আগে, আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তৃতীয় জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধন করেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.), নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, অতিরিক্ত সচিব অশোক ‍কুমার দেবনাথ, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর, আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের, ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. আবদুল বাতেন, ইসির যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামানসহ ইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন