বিজ্ঞাপন

জমি পছন্দ হলেই ‘দখল করে নেন’ বাংলাবান্দা ইউপি চেয়ারম্যান

March 3, 2021 | 10:45 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্দা ইউনিয়ন এলাকার যে কোনো জমি পছন্দ হলেই তা দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেন বাংলাবান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন। তার রয়েছে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে দুপুরে জোর করে জমি জায়গা দখল করে নিলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। এমনকি থানা ও আদালতে মামলা করলেও ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে কেউ থামাতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদ ও জুমার উদ্দিন এসব অভিযোগ করেন। তাদের হয়ে আত্মীয় শাহাদাত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তাদের দাবি, থানায় মামলা নেয় না। এরপর আদালতে মামলা করা হয়েছে। কুদরত ই খুদা মিলনের অন্যায়ভাবে জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযোগের পর মিলন নতুন ডন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এলাকায় তিনি যা চান তাই করতে পারেন। না পারলে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এলাকায় জমি পছন্দ হলেই সেটি দখল করে নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে মিলনের হাতে শারীরিক নির্যাতন, চাঁদাবাজি নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছি। বর্তমানে আমার ১৪০ শতাংশ জায়গা জবরদখল করে রেখেছেন মিলন চেয়ারম্যান। জমিতে যাতে যেতে না পারি সেজন্য বিভিন্ন লোক ও পুলিশকে দিয়ে সাজানো মামলা করাচ্ছেন মিলন ও তার সহযোগীরা। পুলিশকে দিয়ে ইয়াবা কারবার, টাকা পাওনা, ঘর বাড়িতে আগুন দেওয়া ও হামলাসহ ৯টি মামলা দিয়েছেন তার নামে। মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘ইয়াবা মামলাও জেলও খেটেছেন। অথচ তিনি সিগারেটও খান না। তাকে ধরার সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

বিজ্ঞাপন

হামিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘মিলনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন, পাশের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকছেদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে সমঝোতা করার পর ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে মিলনকে। এর দুই মাস পর আমার পাথরের ব্যবসা বন্ধ করে দেন। তিনি গত কয়েক বছরে প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন। মিলন কোন মহাশক্তির বলয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে নেন তা জানি না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হামিদ।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরেক ভুক্তভোগী জুমার উদ্দিন বলেন, ‘আমি এলাকার খেটে খাওয়া একজন কৃষক। পৈত্রিক ‍সূত্রে ও নিজের কেনা মোট ১০০ শতাংশ মালিক আমি। এই জমির ওপর কুনজর পড়ে মিলন চেয়ারম্যানের। ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় সিপাইপাড়া বাজার থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় মিলন চেয়ারম্যানের লোকজন। মিলনের চেম্বারে বসিয়ে কিছু স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলেন। রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। মিলন চেয়ারম্যানের হুকুমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী জুমারকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি দিয়ে এলাপাথারি মারতে থাকে। ধারালো ছুরি দেখিয়ে তাকে বলা হয়, মেরে রাতের মধ্যে মহানন্দা নদীতে ভাসিয়ে দেবে। মানুষ মনে করবে চুরি করতে গিয়ে বিএসএফ এর হাতে মরেছে। গভীর রাতেও হাত পা বেঁধে এভাবে দফায় দফায় নির্যাতন চলে। শেষে ছয়টি স্ট্যাম্পে টিপসই দিতে বাধ্য হই।’

বিজ্ঞাপন

এরপর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বরং মিলন চেয়ারম্যানকে নোটিশ করা হলে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মিলন চেয়ারম্যান। এর জের ধরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা রদিকে মিলন অস্ত্র শস্ত্রসহ দলবল নিয়ে জুমারের বাড়িতে যান। সেখানে তার বাড়ির দরজা-বেড়া ভাঙচুর করেন এবং তাকে মেরে ফেলার জন্য শারীরিক নির্যাতন করেন। এতে জুমারের কাপড়চোপড় ছিড়ে যায়। প্রাণ ভয়ে জুমার চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে রক্ষা করেন তাকে। যাওয়ার সময় অস্ত্রশস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, জুমারকে একা পেলে মেরে ফেলবে, লাশ গুম করবে, ভারত থেকে ফেনসিডিল এনে জুমারের বাড়ি ও দোকানে রাখবে এরপর মামলা দেবে। প্রয়োজনে নিজেদের বাড়িতে আগুন দিযে জুমারের নামে মামলা দেবেও বলে হুমকি দেন সন্ত্রাসীরা।

মিলন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩টি মামলা করলেও বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ তাদের কেন গ্রেফতার করেন না তা জানা নেই। বরং তাদের নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদের নির্যাতনের ভয়ে আব্দুল হামিদ ও জুমার উদ্দিন বাড়ি ছাড়া। হামিদ ও জুমার ছাড়াও এলাকার রেহেনা বেগম, আব্দুস সাত্তার, ড. জিন্নাত আরা রোকেয়া চৌধুরী ও দবির ইসলামসহ অনেকের জমি জোর করে দখলে নিয়েছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সবার কাছে মিলন চেয়ারম্যানের অপকর্ম বন্ধের জন্য জোর দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাবান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি জমি কিনে নিই। কারো জামি দখল করি না। আর অন্যায় করলে তদন্ত হোক। তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।’

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন