বিজ্ঞাপন

বিদ্রোহীদের ছাড় নয়, ইউপি’তে উন্মুক্ত প্রার্থিতায় যাবে না আ.লীগ

March 3, 2021 | 11:50 pm

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এরই মধ্যে এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তারপরও এই নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত না রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে দলের মনোনয়নের সিদ্ধান্তের বাইরে কাউকে ছাড় দিতে দলটি নারাজ।

বিজ্ঞাপন

দলটির হাইকমান্ডের নির্দেশনা, পৌরসভা নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ইউপি নির্বাচনেও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের ব্যাপারে কঠোরতা বজায় রাখবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) অন্য রাজনেতিক দলগুলো অংশ নিলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

বুধবার (৩ মার্চ) প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল আনুয়ায়ী আগামী ১১ এপ্রিল এসব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে। নির্বাচনে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৮ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৪ মার্চ।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে একটি চিঠি পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২৮(৩)(ঙ) অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের প্যানেল তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা আয়োজন করবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থীদের একটি প্যানেল সুপারিশের জন্য কেন্দ্রে পাঠাবে। ওই প্যানেলকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সইয়ে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, বিএনপি দলীয়ভাবে এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখে বহুমুখী গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে দলের কেউ ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে সার্বিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে। দলীয় সূত্র বলছে, গণভবনে শিগিগরই মনোনয়ন বোর্ডের এই বৈঠক হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি। তবে গত কয়েক মাস ধরে চলমান কয়েক ধাপের পৌর নির্বাচন বিএনপি প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। তবে এসব নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলটি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ির আশঙ্কা রয়েছে। তৃণমূলের তথ্য বলছে, প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে পৌরসভা নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’দের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে। এ ধরনের ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরির কারণে ভোটের মাঠ সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে কি না, তা নিয়েও চিন্তিত রয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। তবে ইউপিতে ত্যাগী, যোগ্য ও দলের জন্য নিবেদিত নেতাদেরই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে— এমনটিই বলছেন নেতারা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩ মার্চ) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির নবনির্বাচিত সদস্যদের পরিচিতি ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’দের ছাড় দিচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। তবে এ সংবাদ সত্য নয়। দল এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পৌর নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’দের মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থান বজায় থাকবে কি না— জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সারাবাংলাকে বলেন, ‘যারা বিদ্রোহ করেছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা নেত্রীর সিদ্ধান্ত। এর নড়চড় হবে না।’

বিজ্ঞাপন

নানক বলেন, প্রার্থী যাচাই-বাছাই করা হবে। বিভিন্নভাবে প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে। তৃণমূল যেসব নাম পাঠাবে, সেগুলো উপজেলায় যাবে, সেখান থেকে যাবে জেলায়। জেলা থেকে কেন্দ্রে আসবে তালিকা। তারপর কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হয়েছে। এখনো হয়তো হবে। কিন্তু তাদের সতর্ক থাকতে হবে। নৌকা মার্কাটা দেন আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই নৌকার বিরোধিতা করা মানে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা, শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ করা। শেখ হাসিনার সঙ্গে বেয়াদবি করা। কাজেই এই বেয়াদবি যারা করবে, তাদের দলে রাখার কোনো যুক্তি নেই। তাদের দল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া উচিত।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক ছাড়া উন্মুক্ত নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা করছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো দলীয় প্রতীকই থাকবে। এরই মধ্যে আমরা এ বিষয়ে জেলাগুলোকে নির্দেশনাও দিয়েছি। কাজেই ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে। উন্মুক্ত বা অন্য কোনো চিন্তাভাবনা আমাদের নেই।

পৌরসভা নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’দের প্রতি আওয়ামী লীগের যে কঠোরতা ছিল, তা ইউপি নির্বাচনেও বজায় থাকবে কি না— জানতে চাইলে নানক বলেন, আমরা চেষ্টা করব একইরকম কঠোর থাকতে। তারপরও দেখা যাক কী হয়।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন