বিজ্ঞাপন

‘ফখরুল-মিনুদের ষড়যন্ত্রের আস্তানা বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে’

March 7, 2021 | 5:16 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘ওই দিবাস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই। এটি ১৯৭৫ সাল নয়, এটি ২০২১ সাল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের আস্তানায় আঘাত হেনে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে কৃষক সমাবেশ, আলোচনা সভা ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে সংগঠনটি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যারা ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারা আজ ৭ মার্চ দিবস পালন করেছেন। তারা এই ২৫ মার্চ পালন করতে চায়। ওরা কারা? ওদের ইচ্ছা, ওদের আকাঙ্খা কি? ওদের লক্ষ্য কি? ওদের লক্ষ্য হলো, আবার একটি ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা করা। ওদের লক্ষ্য আমাদের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলা। ওদের লক্ষ্য হল পাকিস্তানি আইএসআইয়ের প্রেসক্রিপশন অনুসারে এক একটি সময়ে এক একটি কূটকৌশল গ্রহণ করছে। সেই কূটকৌশল সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

নানক আরও বলেন, “এই মার্চ মাসে দাঁড়িয়ে রাজশাহী মহানগরীতে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা (মিজানুর রহমান মিনু) বলেছেন, ‘আরেকটি ১৫ আগস্ট এই বাংলার মাটিতে হবে’। আমি আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এই বক্তব্য যদি মিনু সাহেবের ব্যক্তিগত হয়, তাহলে সরকারকে অনুরোধ করব, কেন মিনু সাহেব এই বক্তব্য দিলেন? এর যোগসূত্র কি? এর পিছনের ঘটনা কি তা প্রমাণ করার জন্য তাকে আইনের আওতায় এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করতে হবে? কি কারণে সে একথা বলেছে।’

নতুবা বাংলাদেশের মুজিবপ্রেমিক জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেমনিভাবে গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছে, তেমনিভাবে এই ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের ওই জালও ছিন্নভিন্ন করে ষড়যন্ত্রের আস্তানায় আঘাত হেনে ওদেরকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নানক।

বিজ্ঞাপন

কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসার নিশ্চয়তার জন্য। সেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ যখন সেই অন্নের নিশ্চয়তা পেয়েছে, বস্ত্রের নিশ্চয়তা পেয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা পেয়েছে,সেই বাংলাদেশকে আবার পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে ওরা, ওদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যারা বাঙালির ইতিহাসকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে, গৌরবের ৭ মার্চের জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণকে অবজ্ঞা করে আর যাই হোক তারা বাঙালি প্রেমিক হতে পারে। তারা আর যাই হোক বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তারা ইতিহাস বিকৃতকারী। তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি। তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদদলিত করে আমাদের অস্তিত্বের উপর আঘাত হানতে চায়।’

বিজ্ঞাপন

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন