বিজ্ঞাপন

কার্টুনিস্ট কিশোরের মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

March 14, 2021 | 2:50 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতারের পর নির্যাতনের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযুক্ত করে কার্টুনিস্ট কিশোরের দায়ের করা মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। পিবিআই এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আদেশ পাওয়ার ২৪ কর্মঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি কানে-পায়ে আঘাত করে থাকে তাহলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এর আগে গত ১০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাটির আবেদন করেন কার্টুনিস্ট কিশোর।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ মে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক কাকরাইলের বাসা থেকে জোর করে কিশোরকে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে অজানা নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যায়।

কিশোর মামলার এজাহারে বলেন, বিকেলে বাসার কলিংবেল বাজার শব্দ শুনে আমার ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই অপরিচিত একজন বলল, দরজা খোলেন না কেন? লুঙ্গি পরিবর্তন করে প্যান্ট পড়ে নেন, সঙ্গে একটা ভালো শার্ট। আমি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আমাকে কিছুই বলেনি। ঘরে ঢুকেই তারা তল্লাশি শুরু করে। আমাকে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারেনি। আমার বাসা থেকে আমার মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কসহ যত ডিজিটাল ডিভাইস ছিল সবই তারা অবৈধভাবে নিয়ে যায়। আমাকে যখন হাতকড়া পড়িয়ে বাসার নিচে নামিয়ে আনা হয় তখন বাসার সামনে ৬-৭টি গাড়ি অপেক্ষা করছিল। এরপর আমাকে একটি গাড়িতে ওঠানো হয়। আমার বাসার সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল। আমি তখন প্রচণ্ড জোরে জোরে চিৎকার করি। কিন্তু গাড়িতে অনেক বড় শব্দ করে গান বাজানো হচ্ছিল। তাই হয়ত আমার চিৎকারের শব্দ বাইরে শোনা যায়নি। পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারলাম আমাকে একটি পুরানো এবং স্যাঁতস্যাঁতে বাড়ির ভেতরে আনা হয়েছে। গাড়ির হর্নের শব্দ পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর প্রজেক্টরে একের পর এক কার্টুন দেখিয়ে সেগুলোর মর্মার্থ জানতে চাওয়া হয়। করোনা নিয়ে আমার আঁকা কিছু কার্টুন দেখিয়ে কেন এঁকেছি এবং কার্টুনের চরিত্রগুলো কারা প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে প্রচণ্ড জোরে আমার কানে থাপ্পড় মারে। কিছুক্ষণের জন্য আমি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়ি। বুঝতে পারছিলাম আমার কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে। যন্ত্রণা এবং ব্যথায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলাম। এরপর গত ৬ মে আমাদেরকে রমনা থানায় পাঠানো হয়। বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে, হাঁটতে গেলে হঠাৎ করে পড়ে যাই এবং শরীরে আরো বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এআই/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন