বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

March 16, 2021 | 10:56 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান (২৬) মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চার দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় জেলার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ছায়া নেমে এসেছে। দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

এদিকে, তাকবিরের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল ও শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, ১১ মার্চ এক দলীয় কর্মসূচিতে মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধুনট উপজেলায় যাওয়ার পথে শেরপুর এলাকায় দুই নেতার মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি থেকে বিরোধের সূত্রপাত। সে সময় জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষকে শান্ত করে ঘটনার মীমাংসা করে দেন।

কিন্তু, ওই দুই গ্রুপ ধুনট থেকে ফিরে এসে রাত ৯ টার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় আবারও বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান ছুরিকাঘাতে আহত হন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও ওই ঘটনায় আরও আট জন আহত হয়। এদের মধ্যে রাতেই তিন জন হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাকবিরের অবস্থা সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। দুপুরে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান। মৃতুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান।

এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির সারাবাংলাকে জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনার পরের দিন ১২ মার্চ সদর থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। একটি মামলা দায়ের করেন তাকবিরের মা আফরোজা ইসলাম। অন্য মামলাটির বাদি সোহাগ হাসান। তিনি ছাত্রলীগ আজিজুল হক কলেজ শাখার নেতা বলে দলীয় সূত্র জানায়। এই দুটি মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরয় অর্ধশতাধিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সদর থানার ওসি আরও জানিয়েছেন, মরদেহ ময়না তদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিব হাসান শাওন এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ছাত্রলীগের এই মেধাবী নেতাকে হারাতে হলো। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওদিকে, এ ঘটনার জেরে শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ  নিয়ে শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন