বিজ্ঞাপন

শুভ জন্মদিন মজলুম জননেতা

December 12, 2017 | 9:49 am

তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি। তার জীবন ছিল গ্রামভিত্তিক। সারা রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী হলেও, কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন নি। তার নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন। আর এ কারণে তাকে বলা হত মজলুম জননেতা।

বিজ্ঞাপন

আজ ১২ ডিসেম্বর এ মহান নেতার ১৩৭ তম জন্মদিন। মওলানা আবদুল হামিদ খান ১৮৮০ সালে আজকের এদিনে সিরাজগঞ্জ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় কয়েক বছর অধ্যয়ন ছাড়া তার বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না তার। কর্মজীবন শুরু করেন টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে।

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে সেখানকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ত্রিশের দশকের শেষদিকে তিনি আসামের ঘাগমারায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ভাসানচরের জনসাধারণ তাকে ‘ভাসানী সাহেব’ বলে অভিহিত করে এবং পরবর্তীকালে এ উপাধি তার নামের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত হন। ভাসানী এর কড়া প্রতিবাদ করেন।

তিনি আইয়ুব সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে মুক্তি দানের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে তিনি সর্বপ্রথম দাবি তুলেন বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী অপসারণের।

এ মহান নেতা ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন