বিজ্ঞাপন

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৫৫৪, সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকায় ১১তম

March 23, 2021 | 8:22 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের পরিমাণ কোনোভাবেই কমছে না। বরং দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হওয়ার একবছর পেরিয়ে এসে সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দেশে ২৫ হাজার ৯৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় তিন হাজার ৫৫৪ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত প্রায় ৯ মাসের মধ্যে এটিই একদিনে দেশে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। আর প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এটি একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকায় ১১তম স্থানে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দেওয়া গত একবছরের করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম দেশে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ওই দিন তিন জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। ৯ এপ্রিল একদিনে শনাক্ত হয় শতাধিক সংক্রমণ। এর ১৫ দিন পর ২৪ এপ্রিল সংক্রমণ ছাড়িয়ে যায় পাঁচশ’র ঘর।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৫৫৪, সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকায় ১১তম

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১১ মে প্রথমবারের মতো একদিনে সহস্রাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয় দেশে। একদিনে দুই সহস্রাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয় ওই মাসেই— ২৮ মে। ১০ দিন পরই ১০ জুন সংক্রমণ শনাক্ত হয় তিন হাজারের বেশি। এরপর থেকে ১৩ জুন বাদে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিনই তিন হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। জুলাই মাসেও ৩১ দিনের মধ্যে ১৪ দিনই তিন হাজারের বেশি সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল। সব মিলিয়ে দেশে একদিনে তিন হাজারের বেশি করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩৭ দিন।

এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বেশি করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে গত ২ জুলাই। সেদিন চার হাজার ১৯ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। এছাড়া ১৭ জুন চার হাজার আট জন ও ২৯ জুন চার হাজার ১৪ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। শনাক্তের পরিমাণে এই তিনই রয়েছে তালিকার সর্বোচ্চ অবস্থানে। এছাড়া সাড়ে তিন হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ১১ দিন। সর্বোচ্চ সংক্রমণের তালিকাতেও আজ ২৩ মার্চ রয়েছে ১১তম স্থানে।

বিজ্ঞাপন

সর্বোচ্চ সংক্রমণ যে ১১ দিনে

  • ২০২০ সালের ২ জুলাই: এদিন ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা করে চার হাজার ১৯ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বোচ্চ।
  • ২০২০ সালের ২৯ জুন: এদিন ১৭ হাজার ৮৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করে চার হাজার ১৪ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
  • ২০২০ সালের ১৭ জুন: এদিন ১৭ হাজার ৫২৭টি নমুনা পরীক্ষায় চার হাজার আট জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
  • ২০২০ সালের ২৫ জুন: এদিন ১৭ হাজার ৯৯৯টি নমুনা পরীক্ষায় তিন হাজার ৯৪৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
  • ২০২০ সালের ২৬ জুন: এদিন তিন হাজার ৮৬৮ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১৮ হাজার ৪৯৮টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে।
  • ২০২০ সালের ১৬ জুন: এদিন শনাক্ত হয় তিন হাজার ৮৬২ সংক্রমণ, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৭ হাজার ২১৪টি।
  • ২০২০ সালের ২৮ জুন: ১৮ হাজার ৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড সংক্রমণ শনাক্ত হয় তিন হাজার ৮০৯ জনের মাঝে।
  • ২০২০ সালের ১৮ জুন: এদিন করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় তিন হাজার ৮০৩ জনের মাঝে, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৬ হাজার ২৫৯টি।
  • ২০২০ সালের ১ জুলাই: ১৭ হাজার ৮৭৫টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় তিন হাজার ৭৭৫ জনের মাঝে।
  • ২০২০ সালের ৩০ জুন: এদিন তিন হাজার ৬৮২ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৪২৬টি।
  • ২০২১ সালের ২৩ মার্চ: দেশে করোনা সংক্রমণের একবছর ১৫ দিন পর তিন হাজার ৫৫৪ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৫৪টি। প্রায় ৯ মাস পর দেশে এ নিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হলো। সুনির্দিষ্টভাবে বললে ২৫০ দিন পরে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা তিন হাজার পাঁচশ ছাড়িয়েছে এদিন।

সংক্রমণের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এদিন দেশে নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে সর্বোচ্চ। এদিন দেশের সরকারি ও বেসরকারি আরটি-পিসিআর, জিন-এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে মোট ২১৯টি ল্যাবরেটরিতে ২৬ হাজার ৩৫৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৫৪টি। গত জানুয়ারি থেকে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হলেও একদিনে এত বেশি নমুনা এর আগে কখনো পরীক্ষা করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারও ছিল গত প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর আগে দেশে ১৩ শতাংশের বেশি সংক্রমণ পাওয়া যায় গত ৭ ডিসেম্বর (১৫ দশমিক ২৯৭ শতাংশ)। পরবর্তী সময়ে এটি ১২ শতাংশ থেকে শুরু করে একটা সময় ২ শতাংশের ঘরেও নেমে এসেছিল। ১০৫ দিন পরে সংক্রমণের হার ১৩ শতাংশ ছাড়াল।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন