বিজ্ঞাপন

‘লকডাউন’ পালনে মানুষের অনীহা, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

April 6, 2021 | 7:26 pm

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: হঠাৎ করেই করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশব্যাপী সাতদিনের ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে তা ‘কঠোর বিধিনিষেধ‘ আকারে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এখন সেভাবেই সারাদেশ চলছে। ‘লকডাউন’ শুরুর আগের রাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি ‘কঠোর বিধিনিষেধ‘ জনগণকে যথাযথভাবে পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু গত দুদিন ধরে (৫ ও ৬ এপ্রিল) ঢাকার জনসাধারণের মাঝে ‘লকডাউন’ পালনে অনীহা ভাব দেখা গেছে। এই দুদিন কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা মার্কেট খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। ঢাকার সড়কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক, সিএনজির অভাব নেই। গণপরিবহন হিসেবে পরিচিত শুধু বাসই সড়কে ছিল না। এছাড়া সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। এ নিয়ে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকাও দেখা গেছে।

‘লকডাউন’ পালনে মানুষের অনীহা, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর যখন লকডাউন ঘোষণা করা হলো, ওই সময় পুলিশ যা করণীয় সবই করেছে। দোকান পাট বন্ধে নির্দেশনা ও তদারকি, সড়কে অযথা ঘোরাফেরা বন্ধে নজরদারি, অনাহারির বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়া, ওষুধ সরবরাহ, রোগী নেওয়া, মরদেহ দাফনে সহায়তা, মাস্ক বিতরণসহ নানারকম কাজ করেছে। কিন্তু এবার দুইদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশকে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে যাই বলুক শেষ পর্যন্ত পুলিশকেই ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তবে সেটা আগে থেকে করলে প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে। না হলে এরকম শতাধিক দিন ‘লকডাউন’ থাকলেও কোনো কাজে আসবে না। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ‘লকডাউন’ ঢিলেঢালা নয়, সম্পূর্ণভাবে পালন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৫ এপ্রিল) দিনে রাজধানীতে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশকে মাঠে তেমন একটা দেখা না গেলেও ওইদিন সন্ধ্যার পর কোথাও কোথাও সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। আবার কোথাও কোথাও গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ যাই করুক না কেন আগেরবারের মতো কিছুই হচ্ছে না।

‘লকডাউন’ পালনে মানুষের অনীহা, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

বিজ্ঞাপন

যদিও সোমবার রাতে মধ্য গেন্ডারিয়া এলাকায় থানা পুলিশের গাড়িতে মাইকিং করতে দেখা গেছে। সেখানে বলা হচ্ছিল, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসার বাইরে বের হবেন না। তখনও বাসার বাইরের হাজার হাজার লোক ছিল। সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকলেও মাস্কবিহীন ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।

মঙ্গলবারও (৬ এপ্রিল) সেই একই চিত্র রাজধানীর সড়কে। বাস ছাড়া গাড়ির অভাব নেই। আর রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা যেন এই শহরের রাজা হয়ে গেছে। এদের বেশির ভাগেরেই মুখে মাস্ক নেই। দুয়েকজনের মুখে থাকলেও নামিয়ে থুতনিতে রাখা। কাজের লোকজনের বাইরে বের হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ কাজবিহীন ঘুরছে। এরপরেও পুলিশকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশের দেখা মিললেও তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আছেন। লকডাউন বাস্তবায়নে তেমন ভূমিকায় দেখা যায়নি তাদের।

‘লকডাউন’ পালনে মানুষের অনীহা, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

কেন এই অবস্থা? পুলিশ কেন ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ বাস্তবায়নে কাজ করছে না? এ সব বিষয়ে জানতে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া শাখার একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষকে বল প্রয়োগ নয় বরং সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। গত বছর এই কাজ করতে গিয়ে পুলিশের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাই এবার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুলিশ কাজ করবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। তা না হলে সরকার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘যে হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আশঙ্কাটা বাড়ছে প্রতি ‍মুহূর্তে। যা কিছুই হোক এই গতি থামাতে হলে মানুষকে ঘরে রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে জায়গা নেই। চিকিৎসক নার্স হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু মানুষ উৎসব করছে। এসব বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।’

‘লকডাউন’ পালনে মানুষের অনীহা, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের অধ্যাপক হাফিজা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষকে সচেতন হতে হবে। এর বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে নিজে বাঁচতে। কেউ একবার হাসপাতাল ঘুরে আসলে বুঝতে পারবেন যে অবস্থা কতটা ভয়াবহ। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলেও ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। সবার জন্যই এটা করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করতে হবে। সবাইকে সংক্রমণ রোধে কাজ করতে হবে।

ছবি: সারাবাংলার সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান ও স্টাফ ফটো করেসপন্ডেন্ট সুমিত আহমেদ।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন