বিজ্ঞাপন

কালবৈশাখী ঝড় আর গরম বাতাসে পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন

April 8, 2021 | 10:02 am

এম এ হালিম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কিশোরগঞ্জ: ‘রোববার বিকেলেও মাঠজুড়ে সবুজের বুকে সোনালি রঙে দোল খাচ্ছিল ধানের শীষগুলো। আহারে, কি দারুন দেখাচ্ছিল! হঠাৎ একটি ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল’—বলেন কৃষক নাজিম উদ্দিন। তিনি-সহ স্থানীয় কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় আর গরম বাতাসের প্রভাবে তাদের জমির সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিনের মধ্যেই ধান কাটার ধুম পড়বে, নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠবে আঙিনা- কৃষকরা যখন এমন সোনালি স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই সব কিছু তছনছ করে দিল কালবৈশাখীর ছোবল।

গতবছর থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব, তার ওপর একমাত্র জমির ধান নষ্ট হওয়ায় কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক আক্কাছ আলী জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে ভৈরবে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেত্রের ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা অবস্থা কৃষকদের।

কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা তাদের খোঁজ নিতে আসেননি। এছাড়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতাও চান তারা।

বিজ্ঞাপন

তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

কালবৈশাখী ঝড় আর গরম বাতাসে পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত রোববার রাতে ৫ ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে ভৈরবের শ্রী-নগর, আগানগর, সাদেকপুর ও গজারিয়াসহ চারটি ইউনিয়নের ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এ চারটি ইউনিয়নে। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওরে মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ হাওরের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর ভৈরবে ৬ হাজার ৬ শ ৬০ হেক্টর জমিতে ও ইউনিয়নের ২১টি ও পৌরসভার একটিসহ ২২টি ব্লকে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত রোববারের ঝড়ো গরম বাতাসে ২৯০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে তালিকা তৈরি করছি। এ পর্যন্ত ২৯০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে নিরুপণ করেছি। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাছাড়া কষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব, যাতে তারা প্রণোদণা পায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, গত রোববারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি নিরুপণের জন্য  জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতির পিরমাণ হিসাব করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, সেজন্য দুদিন পর পর আপডেট ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার প্রণোদনা দিলে যাতে কৃষকরা পেতে পারেন।

সারাবাংলা/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন