বিজ্ঞাপন

ঢাবি অধ্যাপক গালিবের মৃত্যুতে শোক

April 9, 2021 | 1:16 am

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. গালিব আহসান খান করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ঢাবি পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

গালিব আহসান খান ১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে ২০১০ সালে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে বিজ্ঞানের দর্শন বিষয়ে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। তার পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউজিসি অধ্যাপকের মর্যাদা লাভ করেন।

বিজ্ঞানের দর্শন ও প্রায়োগিক দর্শন বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থের রচয়িতা এই প্রথিতযশা অধ্যাপক। দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন জার্নালে তার বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম বিজ্ঞানের দর্শন বিষয়ে গবেষণা ও চর্চার সূত্রপাত করেন।

বিজ্ঞাপন

ড. গালিব ঢাবির গোবিন্দ দেব দর্শন গবেষণা কেন্দ্র এবং নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা চর্চার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি নীতিবিদ্যা বিষয়ক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং তার হাত ধরে ২০০৮ সালে ঢাবি নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ্যাতিমান এই অধ্যাপক সম্পর্কে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন রশীদ বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান মানুষ। নীতি-আদর্শের দিক থেকে অটল-অবিচল। একজন নিষ্ঠাবান ও আদর্শবান শিক্ষকের যে-সব গুণাবলী থাকা দরকার তা তার মধ্যে ছিল। সেদিক থেকে তিনি সকলের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অসামান্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সাদাসিদে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মাটির মানুষ, স্বভাবের দিক থেকে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন। শিশুসুলভ সারল্য ছিল তার অনন্য বৈশিষ্ট্য। খুবই অন্তর্মুখী এবং নিজের ভেতরে গুটিয়ে থাকা গভীর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অথচ আচার-আচরণে মানবিকতাবোধে পরিপূর্ণ একজন মানুষ।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ড. গালিব আহসান খনের আকস্মিক মৃত্যুতে দর্শন পরিবারে গভীর শুণ্যতার কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় চেয়ারম্যান বলেন, এমন মহৎ মানুষের মৃত্যু নেই। তিনি যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন তার কর্ম-কীর্তিতে। আমাদের স্মৃতিতে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে।

সারাবাংলা/জেআইএল/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন