বিজ্ঞাপন

অপহরণের অভিযোগে ৪ র‌্যাব সদস্য গ্রেফতারের পর নিজ বাহিনীতে ফেরত

April 9, 2021 | 6:16 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তামজিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ভোরে তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি তামজিদের ভাই রাইয়ানা হেসেনকে ফোন করে নিজেকে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন। জানানো হয়, তামজিদ হোসেন তাদের হেফাজতে রয়েছে। থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানালে তামজিদকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

বিজ্ঞাপন

ওইদিন সকাল ৯টার দিকে তামজিদ হোসেন নামের ওই ব্যক্তি হাতিরঝিল এলাকা থেকে উত্তরা যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

এজাহারে মামলার বাদী রাইয়ানা হোসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে আমি অনেকবার র‌্যাবের কর্মকর্তা পরিচয়দানকারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী সেই ব্যক্তি বারবার আমার ফোন কেটে দেয়। দুপুর অনুমান দেড়টার দিকে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী সেই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, আমার বড় ভাইকে র‌্যাব অফিসে সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার নামে অস্ত্র ও মাদক মামলা হবে।’ এমনকি তাকে ক্রস ফায়ারও দেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

‘র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী সেই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমার ভাইকে তাদের সহযোগিদের দ্বারা মারধরের শব্দ শোনায় এবং আমার ভাইকে মোবাইল ফোন দিলে আমার ভাই কাঁদতে কাঁদত জানায়, তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে বেদম মারধর করছে। আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানায়’, এজাহারে উল্লেখ করেন রাইয়ানা হোসেন।

বিকাল পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা আমার বড় ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসাবে দুই কোটি টাকা আদায়ের জন্য অজ্ঞাত স্থানে আটকিয়ে রেখেছে বলে দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে থানার কেউ কথা না বললেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, ভোর চারটার দিকে হাতিরঝিল থানায় র‌্যাব, সেনাবাহিনী আর বিমান বাহিনীর গাড়ি আসতে থাকে। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গাড়িগুলো জুমার নামাজের পর চলে যায়। তবে ঘটনা কি ছিল, তা কেউ বলতে পারেনি।

অপহরণের টাকা আদায়ের সময় র‌্যাব সদস্যদের গ্রেফতারে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দেবনাথ। তাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত বলতে পারবো না। আসামিদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পলাতকদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ এটুকু বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেফতার চার র‌্যাব সদস্যদের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর ও একজন বিমানবাহিনীর সদস্য। টাকা আদায়ের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হলেও থানায় নিয়মিত মামলার পর চার জনকেই তাদের নিজ নিজ বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিচার নিজ নিজ বাহিনীর আইনকানুন অনুযায়ী হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত আরও দু’জন পলাতক আছেন। তাদের মধ্যে একজন বিজিবির সদস্য ও একজন সাধারণ মানুষ।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মঈন হোসেন বলেন, ‘হাতিরঝিল থানা পুলিশ একটি ঘটনায় চার জনকে আটক করেছিল। ঘটনাটি র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের কঠোর সাজার মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সদস্যরা অপরাধ করতেই পারে তবে র‌্যাবের মতো বাহিনীতে অপরাধে শাস্তির সংখ্যা একশতে একশ।’

সারাবাংলা/ইউজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন