বিজ্ঞাপন

নিউমার্কেট: স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঘুরছেন ক্রেতারা

April 10, 2021 | 4:39 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে চারদিন বন্ধ ছিল রাজধানীর মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের অন্যতম ব্যস্ত বাজার ‘নিউমার্কেট’। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) মার্কেটটি খুলে দেওয়ার পর থেকেই বাড়তে থাকে ক্রেতাদের আনাগোনা। শনিবারে (১০ এপ্রিল) এসে সেটি রূপ নেয় ক্রেতাদের কোলাহলে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বেচা-কেনার পরিমাণও।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিউমার্কেটসহ পাশাপাশি গাউছিয়া, চাদনী চক, নূরজাহান মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। আগের মতোই গাদাগাদি করে কিনতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্য, তবে এই ভিড়েও ক্রেতারা মানছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। এদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, গোটাদেশই এখন মহামারির হুমকিতে রয়েছে!

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও মার্কেট খুলে দেওয়ার কারণ ব্যবসা। তবে খুলে দেওয়ার আগে যথাযত স্বাস্থবিধি মানতে তাদেরকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বিক্রয়কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও মূলত এটি মানছেন না ক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

নিউমার্কেটের এক দোকানকর্মী রায়সুল বলেন, আমাদের এখানে ধানমন্ডি থেকেই বেশি মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। এরা শিক্ষিত এবং পয়সাওয়ালা। এরা স্বাস্থবিধি না মানলে আমরা কি বলতে পারি? বললেও এরা শুনতে চায় না।

জামাল নামের আরেক দোকানি বলেন, বেশিরভাগ লোকজনই থুতনিতে মাস্ত রেখে কথা বলে। দোকানে ঢুকে হাঁচি দেয়। না করি। সচেতন করার চেষ্টা করি। ওরা শিক্ষিত মানুষ, আমরা সেটা না। এজন্য হয়তো আমাদের কথা শুনে না। তবে অনেকে আবার দারুণ সচেতন। এদেরকে আলাদা ভাবে কিছু বলতে হয় না। এরা বরং উল্টো আমাদের সচেতন থাকতে বলে।

বিজ্ঞাপন

নিউমার্কেটে শনিবার সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে তৈজসপত্রের দোকানগুলোতে। এর পরে ভিড় ছিল কাপড় আর কাঁচাবাজারে। ভিড় ছিল ফুটপাতেও। তবে চশমা, ঘরি আর রঙতুলির দোকানে ক্রেতা ছিল কম।

মডার্ণ স্টেশনারিতে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রঙতুলি আর ক্যানভাসের বিক্রি কম। ক্যাম্পাস খুলে দিলে এই আকাল কেটে যাবে। পাশের চশমার দোকান অপটিক ওয়ার্ল্ড বলছে, আমাদের বেশির ভাগ ক্রেতারা বয়স্ক মানুষ, এরা এই সময়ে বের হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না তাই কাজ কম।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নতুন করে লকডাউন দেওয়ার কথা শুনে আবারও চিন্তিত হয়ে পড়েছে দোকান-মালিকরা। সারাবাংলা যে কয়জন দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের কথার সারমর্ম হলো, লকডাউনে দোকান খুলতে না পারলেও মোটা অঙ্কের ভাড়া গুনতে হবে তাদের। এই ভাবে গেল বছর রাস্তায় বসার দশা হয়েছিল তাদের। এবার যেন এটি না হয়। সরকার যেন খুলতে না দোকানগুলোর ভাড়া মওকুফ করে লকডাউন দেয়।

বিখ্যাত জামদানি মহলের মালিক বলেন, এই দোকানের ভাড়া খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা গুণতে হয়। দোকান বন্ধ থাকলে এই টাকা আসবে কোথা থেকে? আগে একবার ফকির হয়েছি, আমাদেরকে বারবার ফকির করবেন না। ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করে লকডাউন দিন, না হলে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায় ৪ এপ্রিল এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে করে সরকার। তবে এই নিয়ম এখন অনেকটাই শিথিল করলেও ১ তারিখ থেকে পুনরায় কঠোর লকডাউনের সম্ভাবনার কথা বলেছে সরকার। সেক্ষেত্রে গেল বছরের মতোই বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে গোটা দেশ। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

সারাবাংলা/টিএস/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন