বিজ্ঞাপন

ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে, প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

April 10, 2021 | 11:48 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১০ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদকে গ্রেফতার ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিকালে নূরনগর বাজারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সুরক্ষা নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা (সুনাম) কমিটির শ্যামনগর শাখা।

বিজ্ঞাপন

ওই ছাত্রীর বাবা জানান, জন্ম সনদ অনুযায়ী মেয়ের জন্ম ২০০৪ সালের ১ ডিসেম্বর। মেয়ে দক্ষিণ হাজীপুর গ্রামের দীঘির পাড়ে শামীম আহমেদের বাড়ির পাশে আফসার মাস্টারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতো। গত ২ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট পড়ে কলেজে যাওয়ার নাম করে মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে মেয়েকে না পেয়ে পরদিন তিনি শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (১৮২) করেন।

এরপর ৭ এপ্রিল ফেসবুকে তার মেয়ে ও প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদ খুলনার এক নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে বসে ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ে সংক্রান্ত এক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করছেন এমন ছবি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে জানান। একপর্যায়ে ওই রাতেই তিনি শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে থানায় মেয়েকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে একটি এজাহার দাখিল করেন।

বিজ্ঞাপন

আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য পলাশ দেবনাথ, আশরাফ হোসেন ও লিটন সরদার জানান, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রধান শিক্ষকের ভাই নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য বখতিয়ার আহমেদ। বড় ভাই সভাপতি হওয়ায় শামীম আহমেদ কয়েক বছর ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে জনসাধারণের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। সম্প্রতি তার বিদ্যালয়ের এক সময়কার ছাত্রী, হিন্দু নাবালিকাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছেন।

নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি বখতিয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

সভায় প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তসহ তাকে কেন স্থানীয়ভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আশালতা মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদ এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার পর প্রয়োজনে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করে তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে শামীম আহমেদের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক দীপ্তেশ রায়কে আসামি গ্রেফতার ও ভিকটিম উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন