বিজ্ঞাপন

সিডিএর দাবি অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ, ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু

April 11, 2021 | 9:13 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজারের গোয়ালপাড়ায় হেলে পড়া ভবনটি অনুমোদন না নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে মালিকপক্ষ সিডিএ’র অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালিকপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১১ এপ্রিল) বিকেল থেকে ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবনটির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার রাতে গোয়ালপাড়ায় কার্তিক ঘোষের মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনটি হেলে পড়ার পর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই ভবনে থাকা পাঁচটি পরিবারকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। এর সঙ্গে লাগোয়া আরও একটি পাঁচতলা ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরানো হয়। আশপাশের সেমিপাকা দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল থেকে ভবনটি পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সিডিএর দাবি অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ, ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু

বিজ্ঞাপন

শাহীনুল ইসলাম খান ভবনটি নির্মাণে সিডিএ’র কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থাপনা যেগুলো হেরিটেজ আছে, এর সংলগ্ন এলাকা গোয়ালপাড়া। আমরা এখানে কোনো ধরনের ভবন নির্মাণের অনুমতি সাধারণত দিই না। সিডিএ’র অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে মাটির ভিত্তি দুর্বল। ভবন নির্মাণে কোনো বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর মতামত বা নকশা করা হয়নি। মিস্ত্রি দিয়ে মালিক নিজের ইচ্ছেমতো করে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। নির্মাণ ত্রুটির কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।’

তবে ভবন মালিক কার্তিক ঘোষের ছেলে রাজু ঘোষ ও রূপা ঘোষ সাংবাদিকদের ১৯৯৬ সালে নেওয়া সিডিএ’র অনুমোদনের নথি দেখান।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে ২০০০ সালে, আমরা যতদূর দেখছি। মাত্র তিনকড়া জায়গার ওপর কোনো ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাদের নথিপত্রে এই ভবনের অনুমোদন সংক্রান্ত কিছুই নেই। এরপরও তারা যেহেতু কাগজ দেখাচ্ছেন, আমরা সেটা ভেরিফাই করে দেখব।’

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত এখানে আসি। প্রথমেই আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কোনো ধরনের ক্যাজুয়ালিটি যাতে না হয়, সেজন্য বাসিন্দাদের সরিয়ে নিই। এখন ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোনোসময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এখানে আমরা পুলিশ মোতায়েন রেখেছি।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে কার্তিক ঘোষের ছেলে রাজু ঘোষ ও রূপা ঘোষ জানান, ভবনটি পুরোনো ছিল। এই ভবনে তাদের সাত ভাইয়ের পরিবার বসবাস করতেন। ভবনের কিছু মেরামত কাজ করার সময় শনিবার হেলে পড়ে। রাত ৮টার দিকে হেলে পড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাসিন্দাদের বের করে দেয়।

এখন তারা পুরো ভবন ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে তারা জানান।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মালিকপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক রয়েছে।’

এদিকে ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ভবনটি দ্রুত অপসারণে সহযোগিতা করতে সিডিএ, ফায়ার সা‌র্ভিসকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

তি‌নি ব‌লেন, ‘নগরী‌তে যেসব ভবন ঝুঁ‌কিপূর্ণ অবস্থায় র‌য়ে‌ছে তার এক‌টি সু‌নি‌র্দিষ্ট তা‌লিকা নিশ্চয়ই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ‌ক্ষের কা‌ছে আছে। আমি ম‌নে ক‌রি, কোনো বড় ধর‌নের বিপর্য‌য়ের আগেই সেগুলো অপসারণে ভবন মা‌লিক‌দের বাধ‌্য কর‌তে হ‌বে।’

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন