বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে অবৈধভাবে আনত করোনা চিকিৎসার ওষুধ, বিক্রি করত দেড় লাখে

April 13, 2021 | 12:47 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একদমই সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য ‘টসিলিজুমাব’ গ্রুপের একটি ইঞ্জেকশন স্বল্প পরিসরে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটেমরা (Actemra) ব্র্যান্ডের ইঞ্জেকশনটির চাহিদা সম্প্রতি বেড়ে গেলে ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে এটি আমদানি শুরু করে একটি চক্র। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই ইঞ্জেকশনের একেকটি ভায়াল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামেও বিক্রি করা হচ্ছিল ক্রেতাদের কাছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ পেয়ে সরকারি দুই সংস্থা অভিযান চালিয়ে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশে ব্যবহারের অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ আরও প্রায় ৩০ ধরনের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১২ এপ্রিল) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর গুলশানে যৌথভাবে অভিযান চালায় এই চক্রের বিরুদ্ধে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের উপপরিচালক ডা. মো. আকিব হোসেন জানিয়েছেন, পরে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পক্ষ থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে অবৈধভাবে আনত করোনা চিকিৎসার ওষুধ, বিক্রি করত দেড় লাখে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘গ্লোবাল ফার্মা সল্যুশন’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে একটেমরা ইনজেকশন বিক্রি করা হচ্ছিল। দেশের বাজারে সংকট থাকা এই ইনজেকশনের একেকটি ভায়ালের দাম চাওয়া হচ্ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করে। গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে সেই ইনজেকশন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। ক্রেতা সেজে ওই পেজে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, রেস্টুরেন্টে ওষুধটি ডেলিভারি দেওয়া হবে। পরে সেখান থেকে ডেলিভারি দিতে আসা দু’জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মূল অভিযান চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের উপপরিচালক ডা. আকিব সারাবাংলাকে বলেন, গুলশানের রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের নিচতলায় সেলিম এন্টারপ্রাইজে অভিযান শুরু করা হয় বিকেল ৩টার দিকে। সেখান থেকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত টসিলিজুমাব জেনেরিকের একটেমরা ব্র্যান্ডের ইনজেকশনসহ ৩০ ধরনের অনুমোদনহীন ওষুধ পাওয়া যায়। এগুলো ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই এখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ওষুধগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে অবৈধ ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিন জনকে আটক করা হয়। এরা হলেন— মো. মোক্তার হোসেন (২৫), মো. ফয়সাল আহমেদ (২৫) ও মেরাজ হোসেন রাতুল (১৮)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে সাদ্দাম হোসেন (২৯) ও তাজুল ইসলাম (৩০) নামে আরও দু’জনের এই অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য জানা গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক আছেন।

বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে অবৈধভাবে আনত করোনা চিকিৎসার ওষুধ, বিক্রি করত দেড় লাখে

অভিযান শেষে আটক তিন জনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-এর বি ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, একটেমরা ব্র্যান্ডের ওষুধটির নির্মাতা সুইজারল্যান্ডের রোশে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে দেশে ওষুধটি আমদানি করে থাকে র‌্যাডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস। তবে চক্রটি ভারত থেকে অবৈধভাবে ওষুধটি নিয়ে এসে বিপুল মুনাফায় বিক্রি করছিল।

একটেমরা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে এর পরিবেশক র‍্যাডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা শোয়েব আল আশরাফ সারাবাংলাকে বলেন, টসিলিজুমাব আমরাই এনে থাকি। তবে এই ইনজেকশনটি আমরা কেবল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখে সরবরাহ করে থাকি ক্রেতাদের কাছে। বাইরে কোনো স্থানে আমরা এই ইনজেকশন বিক্রির জন্য দেই না।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন