বিজ্ঞাপন

১৬৭ কোটি টাকায় সম্প্রসারণ হবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

April 18, 2021 | 8:08 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে মাদকদ্রব্যের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। এতে যুব সমাজের বড় একটি অংশ মাদকাসক্তির কবলে পড়ে নানাধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি নারী এবং শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মাদকাসক্তদের সুস্থ করে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা।

বিজ্ঞাপন

প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং গণপুর্ত অধিদফতর। এক্ষেত্রে বর্তমানে ১০০ শয্যার ডি-এডিকশন কার্যক্রমসহ অতিরিক্ত ১৫০ শয্যার পুর্নবাসন কার্যক্রম চালু করা হবে। সেইসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে মাদকাশক্তি চিকিৎসা ও পুর্নবাসন বিষয়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা হবে। এছাড়া মাদকাসক্তদের সুস্থ্য করে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান মো.উবায়দুল হকের সই করা পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকার ৪৪১, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ২৫ শয্যার একটি নন-পেয়িং ওর্য়াড এবং গুলশান এলাকার ১৫ শয্যার একটি পেয়িং ওয়ার্ড সম্বলিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপিত হয়। মাদকের চাহিদা যোগান ও ক্ষতি হ্রাসের কর্মসূচি অধিকতর তদারকি ও সমন্বয় একই সংস্থার অধীনে বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৯০ সালে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত নিরাময় কেন্দ্রটিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আওতায় ন্যাস্ত করে একে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়। শুরুতে এর শয্যা সংখ্যা ছিল ২৫টি, যার মধ্যে ১০টি নন-পেয়িং এবং ১৫টি পেয়িং। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর মাদকাসক্ত পথশিশুদের জন্য ১০টি শয্যা বৃদ্ধিসহ একে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। এছাড়া সরকারিভাবে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় একটি করে ৫ শয্যা বিশিষ্ট আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চালু করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে দেশে মাদকদ্রব্যের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেসরকারি তথ্য মতে, দেশে মাদকাসক্ত রোগীর সংখ্যা ৭০ লাখ বা তারও অধিক বলে ধারণা করা হয়। মাদকাসক্তদের শতকরা ৮০ জনই যুবক, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। যুব সমাজের একটি বড় অংশ মাদকাসক্তির করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে নানাধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে নারী ও শিশুদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি এক গবেষণায় জানা যায়, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৫ শতাংশ নারী। নারী মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। এছাড়া দেশের ১০ থেকে ১৫ লাখ পথশিশু মাদকাসক্ত।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারিভাবে প্রতি বৎসর ১ হাজার ২০০ জন রোগীকে ডিটক্সিফিকেশন এবং নয়শ জনকে পুর্নবাসন কার্যক্রমের সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার মাদকাসক্ত রোগীকে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এছাড়াও নতুন আর্বিভূত মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সক্ষমতা অর্জনে প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি একটি আদর্শ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করবে।

দেশে আন্তর্জাতিক মানের নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলতে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের পাঁচ সদস্যর একটি টিম ২০১৮ সালে ভারতের মুম্বাই, নয়াদিল্লি, আহেমেদাবাদে ও গুজরাটের বিভিন্ন নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেই অভিজ্ঞতার জন্য একটি সুপরিকল্পিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ১৯ হাজার ৪১৯ দশমিক ৫২ বর্গমিটার মাদকাসক্তি নিরাময় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংস্কার ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, বহির্বিদ্যুতায়ন, আসবাবপত্র ক্রয়, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্য বিধান, অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং হাসপাতালের মেডিকেল সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়।

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন