বিজ্ঞাপন

মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

April 30, 2021 | 11:28 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সদ্য বিলুপ্ত হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। মামলায় তিনি মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় ঝর্ণা এই মামলাটি দায়ের করেন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, জান্নান আরা ঝর্ণা নামে এক নারী সোনারগাঁও থানায় ধর্ষণের অভিযোগ মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩০।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে কী অভিযোগ আনা হয়েছে— জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, বিয়ের কথা গত দুই বছর ধরে জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে মামুনুল হক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রিসোর্টে ঝর্ণাকে নিয়ে মামুনুল হক সময় কাটিয়েছেন। ঝর্ণা তাকে বিয়ের কথা বললেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। সবশেষ সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে তাদের অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। সেখানে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন মামুনুল হক।

দোলাইপাড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে এ বছরের শুরু থেকেই আলোচনায় উঠে আসেন মামুনুল হক। পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতাও করেন তিনি। এই বিরোধিতা ঘিরে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে হেফাজতে ইসলাম। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যেই গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গে যে নারী (জান্নাত আরা ঝর্ণা) ছিলেন, তার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত তিনি। তবে মামুনুল ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। ওইদিন তাকে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্ট ভেঙে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার দিন সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মী‌দের আসামি করে তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মামুনুল হক প্রধান আসামি। মামলা দায়েরের পর মামুনুল বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা এক মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই। কয়েকটি শর্ত দিয়ে চুক্তিভিত্তিক একটি সম্পর্ক রেখেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, রিসোর্টের ওই ঘটনার পর ঝর্ণার বড় ছেলে গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছে, তার মা-বাবার সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে মামুনুল হক বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। জানা যায়, বিচ্ছেদের পর ঝর্ণাকে ঢাকা নিয়ে আসেন মামুনুল। শুরুতে তার অনুসারীদের বাসায় রাখলেও পরে মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় সাবলেট রাখা হয় ঝর্ণাকে। তাকে একটি বিউটি পার্লারে কাজ শেখার সুযোগ করে দেন।

রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। এর আগে পল্টন থানায় তার জন্য জিডি করেছেন ঝর্ণার বড় ছেলে। সবশেষ কলাবাগান থানায় ঝর্ণার বাবা জিডি করে মেয়ের সন্ধান চান। এর পরদনই ‍পুলিশ খুঁজে বের করে ঝর্ণাকে তার বাবার জিম্মায় দেন। এর একদিন পরই ধর্ষণের মামলা করলেন ঝর্ণা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন