বিজ্ঞাপন

‘অপশক্তি যত বড় দানবই হোক, আমরা সফলকাম হব’

April 30, 2021 | 5:41 pm

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান। ২১তম জাতীয় সম্মেলনে একজন তরুণ কর্মী হিসেবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত হন। এর আগে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও উদযাপন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবকিছু নিয়েই কথা হয় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির এই তরুণ নেতার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সারাবাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নৃপেন রায়। তাদের কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো সারাবাংলার পাঠকদের জন্য।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে এসে কেমন বাংলাদেশ পেয়েছি? এই বাংলাদেশ কি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ? ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

সায়েম খান: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। এরপর বঙ্গবন্ধুর রূপকল্পে সোনার বাংলা বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। সেই অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধস্ত স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন। যুদ্ধের সময় বহু মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসন ছিল কঠিন যুদ্ধ। বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রশ্নে, বাঙালি কিভাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে— সেই জায়গাগুলো নির্ধারণের জন্য বঙ্গবন্ধু সবসময় কাজ করে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির পথ কী হবে, একটি রাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে গেলে তার কী কী ভিত্তিভূমি দরকার হয়— সেই রূপরেখা বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কেবল একটি রাষ্ট্রকে মুক্তির পথই দেখাননি, তিনি একটি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র এনে দিয়েছেন, সেই রাষ্ট্রের ভিত্তিভূমি রচনা করে গোটা বিশ্বের জন্য উদাহরণ তৈরি করে গিয়ে গেছেন। মাঝখানে নানা অপশক্তি কবলে পড়ে সেই বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ আবার জাতির জনকের সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা পথে হাঁটছে।

জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হয়তো শতভাগ হয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ৫০ বছর বয়সী এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই পথ ধরেই গড়ে উঠতে উন্নত বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক, যে বাংলাদেশ সব মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: ৫০ বছরে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা কী ছিল?

সায়েম খান: অবশ্যই ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড। এটি এই জাতির সবচেয়ে কলঙ্কিত এক ঘটনা। বাঙালি জাতির প্রতি এক ধরনের উদারতা ও দুর্বলতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু বিশ্বাসঘাতক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করে সেই পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোর আলখাল্লা বাংলাদেশের গায়ে জড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়। পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর ভাবাদর্শ দেশের ওপর আরোপ করা হয়। কখনো সামরিক শাসন, কখনো গণতন্ত্রের মোড়কে সামরিক শাসন, কখনো স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন— এসবের মধ্য দিয়েই দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করাই কেবল নয়, দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: জাতির পিতাকে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ফের বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এরপর আট বছরের বিরতি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে টানা একযুগ তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই দেশের ক্ষমতায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পথচলাকে কিভাবে দেখছেন?

সায়েম খান: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ ফের পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরে যেতে শুরু করে। আমাদের সামনে কোনো আলোকবর্তিকা ছিল না। তখন বাঙালি জাতির দিশা হয়ে আলোকবর্তিকা রূপে আমাদের মাঝে হাজির হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি তার জীবন বাজি রেখে বাঙালির সেই মুক্তির সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম ও বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা হয়ে উঠলেন আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার জন্যে বাঙালি জাতির দিশা হিসাবে কাজ করলেন। এখন তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার প্রত্যয় রাখে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার লড়াই-সংগ্রাম দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করছে বলে একজন তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে করেন?

সায়েম খান: জাতির পিতাকে হত্যাই শুধু নয়, তার আদর্শ মুছে ফেলারও এক হীন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এই বাংলার মাটিতে। তাকে কলুষিত করার অপচেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে। ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। কোথাও না কোথাও ইতিহাসের সেই সব কথা লেখা রয়ে যায়। জাতির জনকের সেই আদর্শ, সেই লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসও একের পর এক উঠে আসছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা নথি থেকে বের হয়ে এসেছে, তাকে ঘিরে কী ষড়যন্ত্র হয়েছে। তাই একটা সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে আড়াল করা গেলেও এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তরুণ প্রজন্ম এই বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ত্যাগ-তিতীক্ষার গল্প জানতে পারছে। আমার মনে হয় এখন যেভাবে তরুণদের কাছে জাতির জনকের কথা পৌঁছেছে, তাতে তাকে আর কখনো এই তরুণ প্রজন্ম ভুলবে না। বরং জাতির পিতার স্বপ্নকে সফল করতেই এই প্রজন্ম কাজ করে যাবে।

সারাবাংলা: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সায়েম খান: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটা পর্যায়ে মেজর জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হলেন। তিনি যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতেন, তাহলে এই রাষ্ট্রের গায়ে কেন তিনি পাকিস্তান ভাবাদর্শের আলখাল্লা জড়ালেন? বাংলাদেশ রাষ্ট্র তো পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোটাকে ভেঙে একটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই রাষ্ট্রের চরিত্র কেন বদল ঘটাবেন? রাষ্ট্রটাকে কেন পাকিস্তানের আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করবেন? কেন ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম যোগ হবে? সংবিধান তো পার্থিব বিষয়। রাষ্ট্র একটি পার্থিব প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের গায়ে বা সংবিধানের গায়ে কেন আধ্যাত্মিকতার আলখাল্লা তিনি জড়াবেন? তার হাত ধরেই যে বিএনপির জন্ম, সেই বিএনপি আজও সেই একই পশ্চাৎপদ রাজনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। আজও তারা জনগণ থেকে দূরে থেকে কেবল নিছক রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে অপপ্রচারকেই ভরসা ধরে নিয়ে বসে আছে।

সারাবাংলা: আগামী দিনের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কোন বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন?

সায়েম খান: চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এই জাতিকে যে রকম অবিভাজিত বোধের জায়গায় দেখেছিলেন, সেখানে বিভাজনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তার একটি ক্ষত আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি আমাদের মনস্তত্ত্বে আছে। আগামী দিনের রাজনীতির লক্ষ্যই হবে এই বিভাজন দূর করা। এটিই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিয়ে আমরা আগামী দিনের এই অবিভাজিত বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই প্রস্তুত হচ্ছি।

বাংলাদেশের আগামী সংকটগুলোকে কিভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং সংকটগুলো উত্তরণের পদ্ধতি কিভাবে নির্ধারণ করতে হবে— এই শিক্ষা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দিয়েছেন। তার শিক্ষা— বাংলার একমাত্র ভরসার জায়গা হল এ দেশের জনগণ। এ দেশের জনগণ অবিভাজিত বোধ নিয়ে একক সত্ত্বা হিসে গড়ে তুলতে হবে। আর সেটি পারলে যত বড় দানবের বিরুদ্ধেই লড়াই-সংগ্রামেই অবতীর্ণ হই না কেন, সেখানে সাফল্য আসবেই। যত বড় অপশক্তিই হোক, একতাবদ্ধ জনগণকে নিয়ে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সফল হবই।

সারাবাংলা/এনআর/এএম/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন