বিজ্ঞাপন

শনাক্তের হার কমলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই

May 2, 2021 | 10:12 am

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে ২০২১ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করে। ৯ মার্চ থেকে সংক্রমণ শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের ওপরে উঠতে থাকে। যা এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ১৯ এপ্রিল থেকে দেশে সংক্রমণ নিম্মমুখী হয়। এপ্রিলের প্রথম ১০ দিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৬ শতাংশ হলেও শেষ ১০ দিনে তা নেমে আসে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশে। শনিবার (১ মে) দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মার্চের শেষ দিক থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ এপ্রিল থেকে দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ সময়ে দেশে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন পিকনিক স্পট ও রাস্তায় বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে শনাক্তের হার কিছুটা কমে এসেছে। একইসঙ্গে মানুষ আগের চাইতে কিছুটা হলেও সচেতন হয়ে মাস্ক ব্যবহার করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার কমে আসায় আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এখনো প্রতিদিন ৫০ জনের অধিক মানুষ কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে মারা যাচ্ছেন। আর তাই সামনের দিনগুলোতে খুব সাবধান হয়ে পরিকল্পনা করতে হবে যেনো পরিস্থিতি আবার এপ্রিলের শুরুর দিকের মতন না হয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারি বিধিনিষেধে কমছে শনাক্তের হার

এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, শনাক্তের হার এপ্রিল মাসের প্রথম ১০ দিন যে অবস্থায় ছিল সেখান থেকে কমে আসছে। এক্ষেত্রে বলা যায় আমাদের এখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল তা কাজ করেছে। তবে শনাক্তের হার এক দিন বা দুই দিন যদি ১০ শতাংশের এর নিচে থাকে তবে সেটিকে কমও বলা যায় না। এটি আরও কমিয়ে আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংক্রমণ শনাক্তের হার যদি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে চার সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে তবে বুঝতে হবে সংক্রমণের আরেকটা ঢেউ পার হয়েছে। তেমন অবস্থায় কিন্তু এখনো বাংলাদেশ পৌঁছায়নি। তাহলে শনাক্তের হার কমেছে কেনো? কারণ এই সময়ে বিধিনিষেধের কারণে আন্তঃজেলা যোগাযোগ বন্ধ ছিল। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তেমন চলাচল করতে পারেনি। এ অবস্থায় সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ তেমন ছিল না। একই সঙ্গে এ সময়ে কিন্তু বিভিন্ন পিকনিক স্পটও বন্ধ ছিল। এ সময়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও অনেক কম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যখন মানুষের মাঝে জনসমাগমে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে ও মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়বে তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সংক্রমণ শনাক্তের হার কমবে। আর তাই বলা যায় বিধিনিষেধের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে এটা ধরে রাখতে হবে। এক থেকে দুই দিনের শনাক্তের হার দিয়ে কিছু বোঝা যাবে না। এটা যদি আরও কয়েক সপ্তাহ থাকে, তবে বলতে হবে বিধিনিষেধ কাজে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, শনাক্তের হার কমেছে কিন্তু কেনো কমেছে এটা নিয়ে আসলে সঠিকভাবে কিছু বলা দুষ্কর। মানুষের মাঝে মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে এ কারণে সংক্রমণ শনাক্তের হার কমতে পারে। বিধিনিষেধ দেওয়ার কারণে মানুষ যেখানে সেখানে বের হতে পারে নি। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস চলাচল ও রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সংক্রমণ কম ছড়িয়েছে। তবে কেনো সংক্রমণ শনাক্তের হার কমেছে এর কোনো গবেষণা ফলাফল যেহেতু জানা নেই তাই আপাতত মাস্ক পরা ও বিধিনিষেধের কারণের এটা হয়েছে এমনটা বলা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল সারাবাংলাকে বলেন, দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার কমেছে তথ্যগত অর্থে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে অনেক কাজ আমাদের করা বাকি এটা বলার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একজন ব্যক্তির মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের পরে তারা সেই এলাকায় হাজার হাজার টেস্ট করেছিল মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে। আমরা কিন্তু তেমন কিছু করছি না। আর তাই আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের উপরে যারা নমুনা পরীক্ষা করাতে আসছে। এক্ষেত্রে আসল সংক্রমণ চিত্র পাওয়া কষ্টসাধ্য। তবে হ্যা মানুষের মাঝে কিছুটা মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি করা যায়। একইসঙ্গে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কাটাও কম ছিল। বিধিনিষেধ তাই কিছুটা হলেও কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায় শনাক্তের তথ্যে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংক্রমণ শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যু সংখ্যা কিন্তু কমেনি। এক্ষেত্রে, মৃত্যু যেখানে হচ্ছে, সেখানকার চারপাশে কতজন মানুষের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বা কতজনের মাঝে উপসর্গ আছে যারা নমুনা পরীক্ষা করায় নি সেগুলো জানা জরুরি। এতে করে সংক্রমণের বিন্যাসটা সহজে বোঝা যেত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, দেশে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে কিন্তু মানুষের মাঝে এখনো সচেতনতা তেমনভাবে দেখা যায় নি। তাও সংক্রমণ শনাক্তের হার কমেছে কারণ বিধিনিষেধ দেওয়ার কারণে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা যোগাযোগও বন্ধ ছিল। এই সময়ে মানুষের মাঝে মাস্ক পরার প্রবণতাটা একটু বেড়েছে বলেই মনে হয়েছে। বিয়ে, জন্মদিন পালনসহ নানারকম সামাজিক অনুষ্ঠান বিধিনিষেধের মধ্যে অনেক কম হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিও কিন্তু তেমন দেখা যায়নি এ সময়ে। পিকনিক স্পটগুলোও বন্ধ থাকার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমেছে। সব মিলিয়ে শনাক্তের হার কমেছে বলা যায়।

আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই

জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, দেশে শনাক্তের হার কমেছে বা কমছে। তার মানে কিন্তু এই না যে সংক্রমণ একবারেই শেষ হয়ে গেছে। আর তাই মাস্ক পরার উপরে জোর দিতে হবে। কোনো ভাবেই আমরা এপ্রিলের প্রথম ১০ দিনের মতন অবস্থায় যেতে পারবো না। যতদিন তাই শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে আসবে না ততদিন আমাদের পরিকল্পনা করে এগুতে হবে।

তিনি বলেন, জনসমাগম এড়িয়ে চলাটা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে পর্যটন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ রাখাটাও জরুরি। সামনে ঈদের সময় আসছে। আর সেই বিবেচনায় গণপরিবহন খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। নইলে দেখা যায় যাত্রীরা ট্রাক বা পিকাপে গাদাগাদি করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে যাতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে যদি লকডাউন বা বিধিনিষেধ সম্ভব না হয় তবে গণপরিবহনে অর্ধেক খালি রেখে চালানো নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি যদি কম পরিচালনা করা হয় তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। তবে মূল কথা হলো- মাস্ক পরা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, হাত ধুতে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতেই হবে।

জানতে চাইলে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, শনাক্তের হার কমেছে দেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগে হঠাৎ করে সব বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার কিছু নাই। এক্ষেত্রে পরিকল্পনার সঙ্গে সামনের দিনগুলিতে এগুতে হবে। সর্বত্র মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জোর দিতেই হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, দেশে যদি সবাই মাস্ক পরে তবে অবশ্যই সংক্রমণ শনাক্তের হার কম থাকবে। কিন্তু যেভাবে বিভিন্ন শপিং মলে ভিড় দেখা যাচ্ছে তা ভয়ানক হতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক পরে, হাত ধুয়ে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পারলে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল সারাবাংলাকে বলেন, দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে করণীয় একটাই। আর তা হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মাস্ক পরলেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে অনেকে মুক্ত থাকতে পারে। আর এ অবস্থায় যদি সবাই হাত ধোয়ার অভ্যাসটা চালু রাখতে পারে নিয়মিত ভাবে তবে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসে অনেকটা। একইসঙ্গে অবশ্যই সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতেই হবে।

এ দিকে দেশে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে কৌশল ঠিক করেছে দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি। ইতোমধ্যেই এই কৌশল ঠিক করে সুপারিশ আকারে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ।

অধ্যাপক ডা. সহিদুল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো যদি পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকর করা যায় তবে সংক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। কিন্তু এগুলো না মানলে ও একসঙ্গে সবকিছু খুলে দিলে আবারো সংক্রমণ বাড়তে পারে।

সুপারিশগুলো হলো-

১. অবশ্যই মুখে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। ঘর থেকে বের হাবার সাথে সাথে যেন মুখে মাস্ক থাকে। যেখানে ভাইরাসের ঘনত্ব বেশি যেমন - গণপরিবহন, সুপার মার্কেট, বাজার, ব্যাংক, হসপিটাল - এসব জায়গায় কেউ মাস্ক ছাড়া যেতে পারবে না। মাস্ক না পরলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

২. অফিসে উপস্থিতি অর্ধেক করার প্রস্তাব করেছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। তবে উপস্থিতি এক-তৃতীয়াংশ হলে ভালো হয়। অফিসগুলোতে ভার্চুয়াল মিটিংকে উৎসাহ দিতে হবে। অফিসগুলোতে যেন দলবেঁধে খাওয়া-দাওয়া না চলে। সবাই যেন আলাদাভাবে তাদের খাওয়া সেরে নেয়।

৩. গণপরিবহন যেন তাদের সক্ষমতার ৫০ ভাগ যাত্রী বহন করে। এই নিয়ম দীর্ঘদিনের জন্য চালু থাকতে হবে। এছাড়া প্রাইভেট এবং তিনচাকার ট্যাক্সি একজন করে যাত্রী বহন করবে। তবে পরিবারের সদস্য হলে দুইজন বহন করতে পারে। অবশ্য রিকশা, মোটরসাইকেল এবং বাই-সাইকেলে কোন সমস্যা নেই।

৪. খাবারের দোকান, মুদি দোকান, মার্কেট এবং শপিং-মল দিনের লম্বা সময়ের জন্য খোলা রাখা। স্বল্প সময়ের জন্য খোলা রাখলে মানুষের চাপ বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। বেশি সময় যাবত খোলা থাকলে মানুষের ভিড় কম হবে। কাঁচা বাজারগুলো উন্মুক্ত জায়গায় পরিচালনা করতে হবে। রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া যাবে না। হোম ডেলিভারি সার্ভিসকে উৎসাহ দিতে হবে।

৫. জনসমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মসজিদ, মন্দির এবং চার্চে যাতে ভিড় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রার্থনায় সীমিত সংখ্যক মানুষ যেতে পারবে। এছাড়া রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও করাও হয় তাতে ১০জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবে না।

৬. যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে। নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৭. কলকারখানার প্রবেশ মুখে শ্রমিকদের জন্য স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা রাখতে রাখবে, যাতে করে তারা জীবাণুমুক্ত হয়ে কারখানায় প্রবেশ করতে পারে। কারখানার ভেতরে মাস্ক পরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

৮. যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি না হয় ততদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে হবে।

৯. বিনোদন এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্র খোলা যাবে না।

১০. আইসোলেশন, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং কোয়ারেনটাইন নিশ্চিত করতে হবে।এছাড়া ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। সংক্রমণ রোধ করার জন্য এটা ভীষণ প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা আসবেন তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। টেস্ট করার সুবিধা বাড়াতে হবে। টেস্টিং সেন্টারগুলোতে যাতে ভিড় না হয় সেজন্য সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় পরামর্শক কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং মনিটরিং জোরদার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/এসবি/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন