বিজ্ঞাপন

হারুন ইজাহার ৯ দিনের রিমান্ডে

May 3, 2021 | 6:12 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সহিংস তাণ্ডবের অভিযোগে দায়ের হওয়া দু’টিসহ মোট তিন মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হারুন ইজাহারকে ৯ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। এছাড়া সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হওয়া আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ মে) দুপুরে ভার্চুয়াল শুনানির পর চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমায়ূন কবীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘তিনটি মামলার প্রতিটিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাটহাজারী থানা পুলিশ সাতদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল। আদালত শুনানি শেষে তিনদিন করে মোট ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। শুনানিতে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি হারুন ইজাহার উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আদালত নামঞ্জুর করেন।’

বিজ্ঞাপন

হারুন ইজহারের আইনজীবী আবদুস সাত্তার সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, তিনটি মামলার মধ্যে দু’টি মামলা পুলিশের দায়ের করা। এছাড়া মারধর ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে আরেকটি মামলা গত সেপ্টেম্বরে দায়ের করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মঈনউদ্দিন রুহী।

পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর জানান, সহিংস তাণ্ডবের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় দায়ের হওয়া আরও দুই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি হারুন ইজাহারকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে আদালতে। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে নগরীর খুলশী থানার লালখানবাজারে জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া লালখান বাজার মাদরাসা থেকে হারুনকে আটক করে র‌্যাবের একটি দল। এরপর তাকে নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

জিজ্ঞাসাবাদের পর হারুন ইজাহারকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। ২৯ এপ্রিল রাতে তাকে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

হারুন ইজাহারের বাবা ইজাহারুল ইসলাম লালখান বাজার মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরাবর আলোচিত বাবা-ছেলে উভয়ই হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। হারুন ইজাহার হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন গত ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর, স্থানীয় ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত হয় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে হেফাজতে ইসলামের চার কর্মী নিহত হন।

বিজ্ঞাপন

এর জেরে তিনদিন ধরে হাটহাজারী থানার অদূরে হেফাজতের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে ইটের দেওয়াল তুলে অবরোধ তৈরি করে রাখে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। একই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় প্রথমে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়, যাতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। গত ২২ এপ্রিল আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে দু’টিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীকে। অপর মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলালসহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের পর থেকে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক হারুন ইজাহারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষপর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতার নামে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিল হেফাজতে ইসলাম, যাতে ইন্ধন দিয়েছিল বিএনপি ও জামায়াত।

তবে হেফাজতের সাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরী কয়েকবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা ও গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। এমনকি হেফাজতে ইসলাম ‘সরকারবিরোধী’ নয় বা বর্তমান সরকারকে হটিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসানোর কোনো এজেন্ডা হেফাজতের ছিল না বলে বাবুনগরী দাবি করেন। এ অবস্থায় হেফাজত নেতাদের একটি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে দেখাও করেন। তবে হেফাজতের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে।

সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে আকস্মিকভাবে জুনায়েদ বাবুনগরী ফেসবুকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। আবার এ ঘোষণার রেশ না কাটতেই রাত সাড়ে তিনটার দিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ থেকে তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথাও প্রচার করা হয়। পরে আরও দু’জনকে সদস্য হিসেবে সংযুক্ত করার কথাও জানানো হয়।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন