বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে হেফাজত নিষিদ্ধের দাবি

May 3, 2021 | 7:20 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জঙ্গিবাদি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে সুন্নি মতাদর্শিক সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।

বিজ্ঞাপন

রোববার (০২ মে) রাতে সংগঠনটির নেতারা ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘উগ্র মতবাদ প্রচার-প্রসারের জন্যই ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কওমিরা সেই উগ্রপন্থী মাদরাসারই অনুসারী। গত প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে পাক-ভারত উপমহাদেশে তারা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বড় ধরনের ধর্মীয় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশে জামায়াত-হেফাজতীদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

হেফাজতের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এতে আরও বলা হয়, ‘২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল। বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরীফে অগ্নিসংযোগ, বাসে-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে, আশেপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকার গাছপালা নিধন করে সেদিন এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর সাথে ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে কারও জান-মাল-ইজ্জতে আঘাত করা হারাম। সরকারের সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপের কারণে জাতি সেদিন বিপদ থেকে রক্ষা পায়।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদের নামে হেফাজতের সহিংস তাণ্ডবের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়- গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করে হেফাজতে ইসলাম। এসব কর্মকাণ্ড ইসলামসম্মত নয়, যদিও তারা ইসলামের হেফাজতের দাবিদার।

বিজ্ঞাপন

‘হেফাজতের দাবি অনুযায়ী- ২৬ মার্চের কর্মসূচিতে তাদের ২০ জন কর্মী নিহত হয়েছে। অথচ আমরা দেখলাম- কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক স্ত্রী নিয়ে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। এই মামুনুল হকের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থাই নেয়নি। তাদের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন- ২৬ মার্চ তাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কত বড় মোনাফেকী চরিত্র! এতেই প্রতীয়মান হয়, তারা ইসলামের হেফাজত নয় বরং ইসলামের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।’

কওমি অঙ্গনের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়- এই কওমিরা আর জামায়াতিরাই একদিন ঘোষণা করেছিল- আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান। ইতোমধ্যে জাতির কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে- সব কওমি জঙ্গি নয় কিন্তু সকল জঙ্গিই কওমি। জামায়াত-হেফাজতসহ কওমি সংগঠনগুলো আজ জঙ্গি প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নির্বাহী মহাসচিব আ ন ম মাসউদ হোসাইনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ ফকির মুসলিম উদ্দিন আহমদ, মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, সৈয়দ মুহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ রাব্বানী, যুগ্ম মহাসচিব কাজী আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এম এ মোমেন, সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ আবদুল মতিন স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন