বিজ্ঞাপন

২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপি: পার্বত্য অঞ্চলের জন্য ১০ উন্নয়ন প্রকল্প

May 4, 2021 | 8:21 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে আসছে নতুন ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে সবুজ পাতায় অন্তর্ভূক্তির জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে চলমান ১৯টি প্রকল্পেও চাওয়া হয়েছে বরাদ্দ। এপ্রিল মাসের শুরুতেই এসব প্রস্তাব পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং কমিটির বৈঠকে প্রকল্পগুলো অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে নতুন এডিপি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত নতুন প্রকল্প প্রস্তাবে আগামী অর্থবছরের জন্য ১০টি নতুন প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো- রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে সেচ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প; এটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত পল্লী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১-২০২৪ সাল পর্যন্ত। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পল্লী অবকাঠামো নির্মাণের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বান্দরবান পৌরসভা ও লামা পৌরসভার জলাবন্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে পানি ব্যবস্থার উন্নয়নে মাস্টার ড্রেইন নির্মাণ, এটি ২০২৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বোর্ড কর্তৃক নির্মিত বিভিন্ন পল্লী সড়ক উন্নয়ন, এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলা সদর হতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ সড়কসহ ব্রিজ/কার্লভাট নির্মাণ, এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর হতে বার্মাছড়ি বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাভলিগুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্রাকস প্রজেক্ট। এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছর পর্যন্ত। ইনহ্যান্সিং রুরাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার প্রডাক্টটিভিটি থ্রো নিউট্রিশন সেনসেটিভ এগ্রো-টেকনোলজিস টু মিটিগেট দ্য ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ ইন চিটাগাং হিলট্রাকস বাংলাদেশ। ২০২২ সাল পর্যন্ত এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সুগারক্রপ চাষাবাদ জোরদারকরণ প্রকল্প নেxয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

চলমান যেমন প্রকল্প
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে চলমান ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প হচ্ছে- পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাহাড়ে মিশ্র ফল চাষ প্রকল্প। বান্দরবান পাবত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। বান্দরবান পার্বত্য জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন।

বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ। ট্রেনদেনিং ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি প্রকল্প। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার টেকসই সমাজ সেবা প্রদান। বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর হতে রুমা উপজেলা পর্যন্ত পল্লী সড়ক নির্মাণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ প্রকল্প।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সাংগু নদীর উপর দু’টি এবং সোনাখালী খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে মাস্টার ড্রেইন নির্মাণ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (দ্বিতীয় পর্যায়)। রাঙ্গামাটি পৌরসভাসহ সব উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও উন্নয়ন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেচ ড্রেইন নির্মাণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেচ ড্রেইন নির্মাণ। বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাথুরে এলাকায় জিএফএস ও সকল এলাকায় ডিপটিউবওয়েলের মাধ্যমে সুপেয় পানীয়জল সরবরাহ।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কফি ও কাজু বাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প এবং খাগড়াছড়ি জেলার বাজারসমুহ ও নিকটবর্তী এলাকায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকরণ প্রকল্পও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সারাবাংলা/জেজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন