বিজ্ঞাপন

‘স্বপ্নে’ নেই উন্নয়ন সহযোগীদের সাড়া, ব্যয় ছাড়াই বাড়ছে সময়

May 6, 2021 | 12:12 pm

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গ্রামীণ নারী উন্নয়নে কাজ করছে ‘উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় কর্মের সুযোগ গ্রহণে নারীর সামর্থ্য উন্নয়ন (স্বপ্ন)’ প্রকল্প। তবে বর্তমানে এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাড়া না পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সরকার গ্রামীণ দুঃস্থ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের চরম দারিদ্র্য অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে চায়। ফলে প্রকল্পটি চালু রাখার স্বার্থে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এক বছর। ২০২০ সালের শেষদিকে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের পঞ্চম স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) সভায় বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ দুঃস্থ নারীদের চরম দারিদ্র্য অবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ গ্রহণে নারীর সামর্থ্য উন্নয়নের জন্য ৮৫৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিল হতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করার জন্য স্টিয়ারিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে।’

সভায় জাতীয় প্রকল্প পরিচালক জানান, সমাজের পিছিয়ে থাকা নারী বিশেষ করে যারা দুঃস্থ, অসহায়, স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা, যাদের পরিবারে কর্মক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য নেই তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প সাহায্যে অংশের ৯৪ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্থ আনফানডেড অবস্থায় একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে। এরপর ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংস্থান অনুযায়ী কুড়িগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলার ১২৪টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৪৬৪জন মহিলা উপকারভোগীর আর্থ-সামাজিক অবস্থায় উন্নয়নের প্রথম চক্রটি শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপি ৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা করে। পরে স্পেনভিত্তিক এসডিজি এফ প্রকল্পে ১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের জন্য ইউএনডিপির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এসডিজি এফ’র সব অর্থ ইউএনডিপির মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ‘প্রকল্পের প্রথম চক্রটি সরকারি, ইউএনডিপি এবং এসডিজি এফের অর্থায়নে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। দ্বিতীয় চক্রটি ১৮টি জেলার ৭৭৫টি ইউনিয়নের ২৭ হাজার ৯০০ জন মহিলা উপকারভোগী নিয়ে আরাম্ভ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু নতুন কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী না পাওয়ার কারণে প্রকল্পটি চালু রাখার স্বার্থে বিদ্যমান ২টি জেলায় নতুন ৪ হাজার ৪৬৪ জন মহিলা উপকারভোগী নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের জন্য ইউএনডিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় চক্রে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটিড এবং করপোরেট সোশ্যাল রেনপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড হিসাবে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ২০ মিলিয়ন এবং শূন্য দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়া যায়। সিএসআর ফান্ড হতে প্রাপ্ত অর্থও ইউএনডিপির মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। দ্বিতীয় চক্রটি সফলভাবে শেষ করার পর বর্তমানে সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নে একইভাবে জামালপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার ৯৯টি ইউনিয়নের তৃতীয় চক্রের কাজ চলমান রয়েছে।’

তিনি জানান, ডিপিপিতে প্রকল্প সাহায্যে অংশে উল্লিখিত ৬৪০ কোটি ৫ লাখ টাকার মধ্যে ইউএনডিপির মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অনুদান সহায়তা পাওয়া গেছে, যা মোট প্রকল্প সাহায্যে অংশের ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অনুদানের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় মোট ৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা ইউএনডিপির মাধ্যমে ব্যয় হওয়ায় তা প্রকল্প সাহায্যে খাতের অধীনে ডিপিএ গণ্য হয় এবং সে অনুযায়ী ডিপিএ অংশে দেখানো হয়। ফলে প্রদর্শিত ব্যয় প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে মোট প্রকল্প সাহায্যে বাবদ বরাদ্দ ৬৪০ কোটি ৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকলেও তা ডিপিএ অংশে সংস্থান করে ২২ কোটি ১৪ লাখ টাকার তুলনায় বেশি হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আনফান্ডডেট অর্থ সংগ্রহে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে দুই দফায় পত্র পাঠানো হলেও আন্তর্জাতিক অর্থায়নে দাতা সংস্থাগুলোর কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্প সহায্যে অংশে ৬১৭ কোটি ৯১ লাখ টাকার সংস্থান থাকলেও এক্ষেত্রে কোনো অর্থায়ন সম্ভবপর হয়নি। প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় এনে ডিপিপি সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ডিপিপিতে প্রকল্প সাহয্যে অংশের মোট বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে আরপিএ খাতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকাল এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি জানতে চান, প্রকল্প সাহায্য বাবদ অবশিষ্ট অর্থ বর্ধিত মেয়াদে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে কি না। জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিএ অংশে অর্থায়নের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া আর কোনো অর্থায়নের সম্ভাবনা নেই।’

বিজ্ঞাপন

৯৬ শতাংশ উপকারভোগী নির্বাচনে সফলতার প্রশংসা করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানতে চান, প্রকল্পের অর্থায়ন সমস্যা দূরীকরণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না। এর জবাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাতিসংঘ-১ অধিশাখার প্রতিনিধি বলেন, ‘প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপির মাধ্যমে প্রকল্প অর্থায়নের বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন