বিজ্ঞাপন

টুইটার বিতাড়িত কঙ্গনা এখন কু-অ্যাপে

May 6, 2021 | 1:41 pm

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক

পশ্চিমবাংলায় ভোটের রায় প্রকাশের আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার ‘বিষোদগার’ করছিলেন বলিউডের কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন কঙ্গনা রানাওয়াত। ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবাংলায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে একের পর এক পোস্টও করেছিলেন। এমনকী মোদিকে বাংলা ‘সামলানো’র আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরপরই বিতর্কিত মন্তব্য করার দায়ে সাসপেন্ড করা হয় বলিউড অভিনেত্রীর টুইটার অ্যাকাউন্টটি। সঙ্গে বিবৃতি দিয়ে ট্যুইটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ট্যুইটার ব্যবহারের কোনও শর্তাবলীই মানছিলেন না কঙ্গনা। বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্যই তার ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়েউটেন কঙ্গনা। টুইটারের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবেই জানালেন তার কাছে অন্য প্ল্যাটফর্ম মজুত রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের মতামত জাহির করতে পারবেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে ভারতীয় মাইক্রো ব্লগিং সাইট ‘কু’। কঙ্গনার পুরনো পোস্ট শেয়ার করে ‘নিজের ঘরে’ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কু অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অপ্রমেয় রাধাকৃষ্ণ।

বিজ্ঞাপন

কয়েক মাস আগে এই ভারতীয় অ্যাপ ‘কু’ (Koo app) আত্মপ্রকাশ করে। অনেক বলিউড সেলিব্রিটি এই ভারতীয় অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াতও। ১৬ ফেব্রুয়ারি কঙ্গনা সেখানে একটি পোস্ট করেন। যাতে তিনি ‘কু’-কে নিজের ঘর, অর্থাৎ ভারতীয় অ্যাপ বলে বর্ণনা করেন। নিজের প্রথম পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘নমস্কার জানাই সকলকে। এটা আমার কাছে নতুন মঞ্চ। তাই বুঝতে সময় লাগবে। কিন্তু ভাড়া বাড়ি চিরকাল ভাড়াই থাকে। নিজের বাড়িতে যেন শান্তি।’

বিজ্ঞাপন
টুইটার বিতাড়িত কঙ্গনা এখন কু-অ্যাপে
কু অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অপ্রমেয় রাধাকৃষ্ণ-এর পোস্ট

এবার সেই পোস্টের স্ক্রিন শট শেয়ার করে কু অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অপ্রমেয় রাধাকৃষ্ণ লিখেছেন, “এটা কঙ্গনার প্রথম ‘কু’। তিনি ঠিক বলেছিলেন। এটি তার নিজের বাড়ির মতো। অন্য সব যেন ভাড়া বাড়ি।” কু-এর অপর এক সহ প্রতিষ্ঠাতা ময়াঙ্ক বিড়াওয়াটকাও কঙ্গনাকে স্বাগত জানিয়েছেন সেই প্ল্যাটফর্মে। তিনি লিখেছেন, ‘কঙ্গনাজি, এটা আপনার নিজের বাড়ি। এখানে স্ব-সম্মানে আপনি নিজের মতামত প্রকাশ করুন।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে বিজেপি নেতারাও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উদ্যোগে তৈরি অ্যাপ ‘কু’-এর প্রশংসা করেন। কিন্তু টুইটারের দাপটে এটি এখনও সেভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। তাই কঙ্গনার মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখর সেলিব্রিটিকে যদি কু-এ সক্রিয় হতে দেখা যায় তবে স্বাভাবিকভাবেই তার অনেক অনুগামীও কু-তে তাকে অনুসরণ করতে পারেন। এখন দেখার ‘কু’ মালিকদের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা কতটা কাজে দেয়।

বিজ্ঞাপন
টুইটার বিতাড়িত কঙ্গনা এখন কু-অ্যাপে
সাসপেন্ড হওয়া কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ মে) রাতে পশ্চিমবাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিতর্কিত টুইটের কারনেই কঙ্গনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়েছে। টুইটারে নিয়মবিধি ভঙ্গ করে, সেই টুইটে হিংসা ছড়ানোর বার্তা দেন এই অভিনেত্রী। বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তর এক টুইটের প্রেক্ষিতে কঙ্গনা হিংসায় প্ররোচনা দিয়ে লেখেন- ‘এটা ভয়ঙ্কর... গুন্ডাগিরি মেরে ফেলার জন্য আমাদের সুপার গুন্ডাগিরির প্রয়োজন... তিনি (মমতা) শেকলহীন দানবের মতো, তাকে দমন করার জন্য দয়া করে ২০০০ সালের প্রথম দিকের বিরাট রূপটা দেখান মোদিজী।’

বিজ্ঞাপন

তার পরপরই বিতর্কিত মন্তব্য করার দায়ে সাসপেন্ড করা হয় বলিউড অভিনেত্রীর টুইটার অ্যাকাউন্টটি। সঙ্গে বিবৃতি দিয়ে ট্যুইটারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা বারবার জানিয়েছি কোনও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইনে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করা হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব। এই অ্যাকাউন্টটি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আমাদের হেটফুল কনডাক্ট (ঘৃণা ছড়ানো) পলিসি ও অ্যাবিউসিভ বিহেবিয়ার (খারাপ ব্যবহার) পলিসি না মানার জন্য। আমরা নিশ্চিত করতে চাই টুইটারের সব ব্য়বহারকারীদের জন্যই এক নিয়ম মেনে চলি আমরা।’

সারাবাংলা/এএসজি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন