বিজ্ঞাপন

অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহে সরকারের ১৩ নির্দেশনা

May 7, 2021 | 10:54 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত বছর বোরো ও আমন মৌসুমে খাদ্যশস্য সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করায় এবার অনেকটা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছে সরকার। তাই শুরু হওয়া বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ সফল করতে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ মে) এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, চলতি বোরো ২০২১ সংগ্রহ মৌসুমে এরই মধ্যে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন ও ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিমান ধান চাল সংগ্রহ সফল করতে ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনাগুলো হলো-
১। ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে অবিলম্বে জেলা/উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা শেষ করতে হবে। কৃষকেরা অ্যাপের বাইরে উপজেলাগুলোতে লটারি করে ধান সংগ্রহ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে গত ৩ ও ৪ মে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২। ধান সংগ্রহের বিষয়টি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় ক্যাবল টিভি স্ক্রলে প্রদর্শন ইত্যাদি উপায়ে বহুল প্রচারণার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৩। যেহেতু চলমান চাল সংগ্রহ মৌসুমে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অপেক্ষা বরাদ্দ কম তাই চাল সংগ্রহ ৩০ জুনের মধ্যে ৭৫ শতাংশ, জুলাইয়ের মধ্যে আরও ১৫ শতাংশ এবং আগস্টের মধ্যে বাকি ১০ শতাংশ (তারিখ, পরিমান, সময়ভিত্তিক, সিডিউল প্রস্তুতিপূর্বক) জেলা, উপজোলা ও গুদামভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি ও সেই অনুসারে সংগ্রহ সম্পন্ন করতে হবে।

৪। সংগৃহীত প্রতিটি চালের বস্তায় সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেনসিল দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৫। আগামী ৯ মে’র মধ্যে চাল সংগ্রহের জন্য মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। চুক্তির মেয়াদ কোনোভাবে বাড়ানো হবে না। চুক্তি শেষ হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মিলারদের অনুকূলে বরাদ্দপত্র ইস্যু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুলিপি দিয়ে অবহিত করতে হবে।

৬। যুগপৎভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ত্বরান্বিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৭। ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা ২০১৭ অনুসারে ২০২১ সালে উৎপাদিত বোরো ধান চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যতয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮। খাদ্যগুদামগুলোতে কৃষকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেন কোনোক্রমেই হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৯। গুদামে স্থান সংকুলান না হলে চলাচল সূচি প্রণয়ন নীতিমালা ২০০৮ অনুসারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক স্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলাচল সূচি জারি করবেন।

১০। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের নিবিড় মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে।

১১। প্রতিদিন বিকাল ৫ টার মধ্যে সব আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে ধান চাল সংগ্রহের তথ্য ও দৈনিক বাজারদর ইমেইলে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগে পাঠাতে হবে।

১২। কোনোপ্রকার আনুষ্ঠানিকতার সুবাদে কোনক্রমেই সংগ্রহ কার্যক্রম বিলম্বিত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

১৩। বিদ্যমান করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে।

এই ১৩ দফা নির্দেশনাযুক্ত পরিপত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সকল বিভাগীয় সচিব, সকল বিভাগীয় কমিশনার, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং সব জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১৮ লাখ ধান ও চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের দাম ৪০ টাকা, আতপ চাল ৩৯ টাকা এবং ধানের দাম ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে ধান সংগ্রহ হয়েছে এবং শুক্রবার (৭ মে) থেকে শুরু হলো চাল সংগ্রহ।

সারাবাংলা/জেআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন