বিজ্ঞাপন

‘গ্রেফতার জঙ্গিদের পুলিশ-বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা ছিল’

May 9, 2021 | 5:42 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পুলিশ ও বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি টিম। এছাড়া চক্রটি টেলিগ্রাম আ্যপসে সায়েন্স প্রোজেক্ট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করেছিল। শনিবার (৮ মে) সেই টিমের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৯ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

সিটিসির অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. জসিমুল ইসলাম ওরফে জ্যাক, মো. আব্দুল মুকিত, মো. আমিনুল হক ও সজীব ইখতিয়ার। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ব্যাগ, একটা চাপাতি, ৫টি স্মার্টফোন ও দুইটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গ্রেফতার সদস্যরা ঢাকা ও সিলেটে পুলিশ ও বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এ চক্রের বাকি দুই সদস্য হিজরতের উদ্দেশে আফগানিস্তান গিয়েছে। গ্রেফতার এই চারজনেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করে কথিত হিজরতের মাধ্যমে আফগানিস্তান পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তারা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার উদ্দেশে রেকি করে।’

তিনি বলেন, ‘আনসার আল ইসলামের গ্রেফতার সদস্যরা নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ বাস্তবতায়নের লক্ষ্যে অনলাইনে টেলিগ্রাম আ্যপসে সায়েন্স প্রোজেক্ট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইস পর্যালোচনা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।’

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, তারা সংগঠনের আদর্শ বাস্তবতায়নের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোহাম্মদপুরে এসে একত্রিত হয়। আনসার আল ইসলামের দায়িত্বশীল বা মাসুল ফরিদ ওরফে তারিক আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় সামাজিক যোগাযোগ আ্যপস গ্রুপ ও অনলাইনে গোপনীয় টেক্সট নামের সিক্রেট চ্যাটিং আ্যপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘সম্প্রতি গ্রেফতাররা সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশে সিলেটের কোতয়ালি থানা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে হোটেল ম্যানেজারকে আহত করে পালিয়ে যায়।’

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গ্রেফতারদের মধ্যে মো. জসিমুল হক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের। মো. আব্দুল মুকিত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার মারকাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষকতা করতেন। মো. আমিনুল হক সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং মো. সজীব ইখতিয়ার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন