বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যায় স্বামী বাবুলকে আসামি করে ৫ বছর পর মামলা

May 12, 2021 | 1:42 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে আট জনের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছরের মাথায় আজ বুধবার (১২ মে) মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, মিতুকে খুনের ঘটনায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, বাবুল আক্তার বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, সেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-  গ্রেফতার নয়, পিবিআই হেফাজতেই বাবুল আক্তার

বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে পিবিআইয়ের দু’জন কর্মকর্তা আদালতে নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে সেটি নথিভুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়েছে, তদন্তে পুরনো মামলার বাদী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর নতুন মামলা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে পাঁচলাইশ থানায় যান মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়ার কক্ষে বসে কিছুক্ষণ কথা বলেন। এরপর মামলার এজাহার জমা দেন। পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেন। মামলা নম্বর- ৫ (৫) ২০২১।

মামলা দায়েরের পর মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তার একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, মামলা তদন্তে ঘটনার সঙ্গে বাবুল আক্তারেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়ে নিষ্পত্তি করেছেন। যেহেতু তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানিয়েছেন, আমি তাকে প্রধান আসামি করে মোট আট জনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করেছি। বাকি সাত জন আসামির সম্পৃক্ততা এর আগে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলা তদন্তে পাওয়া গেছে।’

বিজ্ঞাপন
মিতু হত্যায় স্বামী বাবুলকে আসামি করে ৫ বছর পর মামলা
বিজ্ঞাপন

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেটি করেছিলেন উনার স্বামী বাবুল আক্তার। কিন্তু ওই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে মিতুর বাবা আরেকটি মামলা করেছেন। আমরা মামলাটি গ্রহণ করেছি।’

মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া।

পিবিআইয়ের নির্দেশনা পেয়ে মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় সংস্থাটির চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে যান। সেখানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমাসহ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের একটি টিম তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পিবিআই তাকে হেফাজতে নেয়। নতুনভাবে মামলা দায়েরের পর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বাবুল আক্তারকে আদালতে হাজিরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সন্তোষ কুমার চাকমা।

আরও পড়ুন- মিতু হত্যায় স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মিতুকে। এই ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের বছরখানেক পর থেকেই মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দাবি করে আসছিলেন, বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে তার মেয়ে মিতুকে খুন করা হয়েছে।

মিতু হত্যা মামলায় ওই বছরের ৮ জুন ও ১১ জুন নগর গোয়েন্দা পুলিশ হাটহাজারি উপজেলা থেকে আবু নসুর গুন্নু ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার শীতল ঝর্ণা থেকে শাহ জামান ওরফে রবিন নামে দু’জনকে গ্রেফতারের খবর জানায় পুলিশ। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিতু হত্যায় তাদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর তারা জামিনে মুক্তি পান।

ওই বছরের ২৪ জুন রাতে ঢাকার বনশ্রীর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর ফলে সন্দেহের তীর যায় বাবুলের দিকে। হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন।

২৬ জুন মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামে দু’জনের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জানান, মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি তাদের ভোলা দিয়েছিল।

এরপর এহেতাশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যেটি মিতু হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ভোলা ও মনিরকে আসামি করে একটি অস্ত্র মামলাদায়ের করা হয়।

এরপর ১ জুলাই মোটরসাইকেল সরবরাহ করার অভিযোগে মুছার ভাই সাইদুল আলম সিকদার ওরফে সাক্কু ও শাহজাহান নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ভোলা, সাইদুল ও রবিন এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

২০১৬ সালের ৯ আগস্ট পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন বাবুল আক্তার। নানা নাটকীয়তা শেষে ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

সারাবাংলা/আরডি/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন