বিজ্ঞাপন

বন্ড স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্প, মেয়াদ শেষ হতে চললেও শুরু হয়নি কাজ

May 16, 2021 | 8:42 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপনডেন্ট

ঢাকা: পেরিয়ে যাচ্ছে প্রায় চার বছর কিন্তু এখনো মূল কাজই শুরু হয়নি বন্ড ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্পের। এরই মধ্যে আগামী জুন মাসে শেষ হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। গত ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় খরচ হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্ড ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কর্মপদ্ধতিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া অন্যান্য উদ্দেশ্য হলো— স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশের মাধ্যমে সৃষ্ট অসম প্রতিযোগিতা হতে স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা, ব্যবসার পরিচালক ব্যয় ও সময় কমানো, সেবা প্রদানের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা কমানো, সব মামলা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে সরকারের আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ প্রযোজন্য শুল্ক সংক্রান্ত রাজস্ব সুরক্ষিত করার কথা। কিন্তু নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বন্ড ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিকরণ প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল আট হাজার ১১৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৯ হাজার ৩০১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের সংশোধনীর কারণ হিসেবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া প্রথম সংশোধিত ডিপিপি’র (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংস্থান অনুযায়ী কর্মাশিয়াল অব দ্য সেলফ ইন্টিগ্রেটেড বন্ড অটোমেশন সফটওয়্যার’র স্থলে কাস্টমাইজড ইন্টিগ্রেটেড বন্ড অটোমেশন সফটওয়্যার ক্রয় ও সেটি পরিচালনা করতে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন। সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী ক্রয় কাজ সম্পন্ন করে সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত। কাজেই মূল কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি প্রয়োজন। এছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর কারণে বিভিন্ন অংশের ব্যয় কম বা বেশি হতে পারে। পরামর্শকের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কার্যপরিধি সংশোধন করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অংশের ইকোনমিক কোর্ড সংশোধন করায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট অনুমোদিত হয়। প্রথম সংশোধনীর সাত মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবের কারণ ও যৌক্তিকতা প্রকল্প পরিচালক সভায় উপস্থাপন করতে পারেন। এছাড়া প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা মোটেই সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পটির অগ্রগতি কম হওয়ায় কারণ প্রকল্প পরিচালক সভায় উপস্থাপন করতে পারেন। প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য কি কি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা বিষয়ে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। প্রকল্পের পরামর্শক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রকল্প পরিচালক সভায় উপস্থাপন করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন